সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে

১৭ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবার বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জাকজমকভাবে পালিত হয় এই দিবসটি। এই বছর সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে প্রায় ১০০টির বেশি দেশে। শিক্ষা, ব্যবসা বানিজ্য, সরকারী কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার – এক কথায় বলতে গেলে দৈনন্দিন সকল ধরনের কাজ করার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরী এবং সার্বিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মূলত সকলে জন্য কম্পিউটার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য থেকেই এটি শুরু করা হয়েছে।

সফটওয়্যার ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্ব প্রথম এই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয় এবং বর্তমানে এটি একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা এই এই দিবসটি পালন করে আসছে। প্রতিবছরই অংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম বছর থেকেই ক্যানোনিকাল লিমিটেড এই উৎসবে প্রধান পৃষ্ঠপোষক , এছাড়া অন্যন্য পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গুগল , নোকিয়া, রেড হ্যাট, লাইনোড মেকার বট ইন্ডাস্ট্রি, লিনাক্স জার্নাল, জুমলা, ফ্রি সফটও্যার ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে- শুরুর কথা
স্টলম্যানের দেখিয়ে দেখা পথ অনুযায়ী ফ্রি/মুক্ত সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দৈনন্দিন সব ধরনের কাজ করার উপযোগী সফটওয়্যার তৈরী হতে থাকে। ২০০৪ এর জানুয়ারীর শুরুর দিকে ম্যাট ওকুয়েস্ট নামের একজন প্রোগ্রামার মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার বিতরণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক দিন ঘোষনার প্রস্তাব করেন। সেই সময় “দি ওপেন ডিস্ক” নামের একটি প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল যার মাধ্যমে মাইক্রোসফট উইন্ডোজে ব্যবহার উপযোগী মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার গুলো একত্রে বিতরণ করা হচ্ছিলো। খুব দ্রুত তার এই প্রস্তাডের উপর ভিত্তি করে “সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে” নামের এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং প্রথম বছবই বিশ্বের ৭০টি স্থানে এই দিবসটি পালন করা হয়। এবং প্রতি বছর এর সংখ্যা বাড়ছে।

মু্ক্ত সফটওয়্যার এবং সফটওয়্যার স্বাধীনতা

মুক্ত সফটওয়্যার বা ফ্রি সফটওয়্যার বলতে মূলত একই ধরনের সফটওয়্যারকে বুঝানো হয়ে থাকে। ফ্রি সফটওয়্যারের ফ্রি শব্দটি বিনমূল্য নয় বরং ফ্রিডম অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ধরনরে সফটওয়্যারগুলো কিছু বিশেষ লাইসেন্সের অধিনে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যেখানে সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। যেমন সফটওয়্যারগুলো যেকেউ ব্যবাহরের সুযোগ পাবে, সফটওয়্যারটির সোর্সকোড প্রকাশ করতে হবে যেন সফটওয়্যারগুলো কিভাবে কাজ করছে সেটি সম্পূর্ণভাবে জানার সুযোগ থাকে। ব্যবহারকারী তার পছন্দ অনুযায়ী এই সফটওয়্যারগুলো বিতরণ করতে পারবে এমনকি যদি সে সফটওয়্যারটি সম্পাদনা বা পরিবর্তন করে থাকে সেই পরিবর্তীত সংস্করণও বিতরণের অধিকার থাকবে ব্যবহারকারীর। প্রত্যেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে এই স্বাধিনতা নিশ্চিত করতেই মু্ক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
ফ্রি সফটওয়্যার এবং এর ধারনাটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন রিচার্ড স্টলম্যন নামের একজন মার্কিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কার্মরত অবস্থায় তিনি যে সময় থেকে এই আন্দোলনটি শুরু করেন তখন থেকেই সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যারের সাথে ব্যবহারকরীদের এর সোর্স কোড দেয়া বন্ধ করে দিতে শুরু করে। এ ধরনের প্রোপ্রায়েটারী সফটওয়্যার আগেও ছিল, কিন্তু আশির দশকের শুরু থেকে এটিই মূল ধারায় পরিণত হতে থাকে। ধিরে ধিরে স্টলম্যনের এই আন্দোলনে অধিক মানুষ অংশগ্রহন করতে থাকে। বর্তমানে বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমষ্টিগতভাবে ফ্রি বা মুক্ত সফটওয়্যারের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ।

সাধারণ ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যেই শুরু হয়েছিল মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলন। একে একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন হিসেবে রূপ দিয়েছেন রিচার্ড স্টলম্যান। কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিশাল এই ক্ষেত্রটি এককভাবে পরিচালনা করছে গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান। ব্যবহারকারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও তাদের দেখানো পথ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মালিকানাধিন সফটওয়্যারের উপর যে নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন হয় না, এই পথটি দেখানোর চেষ্টা করা হয় এই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে। প্রতি বছর বিশেষ এই দিনটির মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই কথাটি বার বার মনে করিয়ে দেয়া হয়।

বর্তমানে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় না। তবে মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার বলতে যে শুরুমাত্র লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমকে বোঝানো হয় এমনটি নয় আবার এটি যে সকল ক্ষেত্রে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এই কথাটিও ঠিক না। মুক্ত সফটওয়্যার বলছে কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী সকল ধরনের সফটওয়্যাই হতে পারে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত মুক্ত সফরওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাউজার মজিলা ফায়ারফক্স, ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার, ওপেন অফিস, লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম,অ্যাপাচি সার্ভার, বাইন্ড, মেইল সার্ভার সেন্ডমেইল ও কিউমেইল ইত্যাদি।

বাংলাদেশে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই উৎসবটি পালন করা হচ্ছে। ঢাকার একাধিক স্থানে এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়ে থাকে। এছাড়া গত বছর ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায়ও এই দিনটি পালন করা হয়েছিল।

সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারা যাবে http://softwarefreedomday.org/ ঠিকানা থেকে।

Advertisements

মুক্ত সফটওয়্যার ঘিরে পেশা

মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংএর জগৎটি এমন যে এখানে যুক্ত থেকে কাজ করার জন্য সবসময়ই পেশাদার প্রোগ্রামার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিং এর কাঠামোটি এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন সৃজনশীল যে কেউই তার চিন্তাটি বিকশিত করতে পারে।
মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংভাষাগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রোগ্রামিং-এ খুব গভীর দক্ষতা ছাড়াই কাজ সম্পৃক্ত হওয়া যায়। উদাহারন হিসাবে পাইথন প্রোগামিং ভাষার কথা বলা যেতে পারে। পাইথন ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরী করা জন্য প্রোগ্রামিং দক্ষতার থেকে সৃজনশীলতার বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সাধারণত বহু সংখ্যক মানুষ সম্পৃক্ত থাকেন।এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ডেভলপাররা এই সকল প্রকল্পে যুক্ত হয়ে থাকেন। এখানে অন্যান্য ডেভলপারদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায় এবং একই সাথে দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অন্যান্যদের সহযোগীতা নেয়া যায়। এই সকল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে তা পরবর্তীতে পেশাদারি জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, ওরাকল ইত্যাদি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স প্রকল্পে সম্পৃক্ততারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। এবং এই প্রতিষ্ঠানসমূহ একাধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছে। এবং একই সাথে মুক্ত সোর্স প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ডেভলপারদের প্রতি বছরই এইসকল প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিছুদিন আগ পর্যন্তও মুক্ত সোর্স প্রকল্প বলতে কেবলমাত্র লিনাক্স বা জাভার কথা মনে হত, কিন্তু বর্তমানে এই ধারণাটি অনেকাংশেই বদলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন অ্যাপলিকেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভলপমেন্ট অন্যতম জনপ্রিয় একটি পেশা। আর এই ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা এবং দ্রুপালের মত কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এর ফলেই প্রয়োজন হচ্ছে এই ক্ষেত্রে দক্ষ ডেভলপারদের। জনপ্রিয় সিএমএসগুলোর প্রায় সবকয়টি মুক্ত সোর্স। এই সিএমএসগুলোর এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রাথমিক কাজটি যে কোনো ব্যবহারকারীই করতে পারে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানের ওয়েবসাইট খুব অল্প সময়ে তৈরী করা সম্ভব হয়। তবে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ঠ সংযোজনের জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ ডেভলপারের। এর পাশাপাশি বর্তমানে মুক্তসোর্স ডাটাবেজ, মোবাইল, ইকমার্স, ওয়েব সার্ভারের মত ক্ষেত্রগুলোতেও দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়ছে। মুক্ত সোর্স এই প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ভালো দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই এই কাজগুলো করতে পারা যাবে।

যেভাবে শুরু করতে হবে?
বর্তমানে সময়ে মুক্ত সোর্সের ক্ষেত্রটি এতটাই বিশাল যে সফলতা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে একটি পথ বলে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সফলতা পাওয়ার পূর্বশর্ত হল আগে কাজে নামতে হবে। আর এই বিষয়টি কখনোই নির্দিষ্ট নয় যে মুক্ত সোর্স নিয়ে কাজ করলে মালিকানাধিন বা প্রোপাইটরী কোনো প্রকল্পে কাজ করা যাবে না। বরং দুটি প্রকল্পই সমান ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ আছে। তবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পে যুক্ত হলে কি কি সুবিধা হতে পারে সে সম্পর্কে ধারনা দেয়া যেতে পারে। মুক্ত সোর্স প্রকল্প কাজ করলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। অধিকাংশ বড় প্রকল্পেই বিশ্বমানের প্রোগ্রামাররা যুক্ত থাকেন, এই সকল প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের সাহচার্যে কাজ করার সুয়োগ পাওয়া যায়, যা সহজে অন্য কোনো পথে পাওয়া সম্ভব না। এই সকল প্রকল্পে যুক্ত থেকে যে কাজগুলো করা হবে তার প্রতিটিই সিভিতে যোগ করা যাবে। এবং এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে এই মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত থাকে এবং এই অভিজ্ঞতা ভালো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন
প্রোগ্রামিং এর প্রথমিক ধারনা অর্জন করার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে লেখাপড়া করা বাধ্যতামূলক না। তবে এটি ঠিক যে কম্পিউটার বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রথমদিকে কিছুটা সুবিধা হতে পারে, কিন্তু ভালো মানের অন্যান্য যে কোনো প্রশিক্ষন কেন্দ্রথেকেই এই বিষয়গুলো শিখে নেয়া যায়। এরপর কাজে নামতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে এবং এই সময়টাতে শেখার কাজটি করতে হবে নিজেকেই। মুক্ত সোর্স প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবদানই সব থেকে বড় পরিচয়। প্রকল্পগুলোতে ভালো ভাবে কাজ করার মাধ্যমে সুনাম বাড়বে এবং এটিই দক্ষতার একটি বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিলেই যে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে এমনটি নয়।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোর ঠিকানা
সোর্সফোর্জ (www.sourceforge.net): তিন লক্ষেরও অধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্প এখানে হোস্ট করা আছে। প্রোগ্রামারদের অন্যতম পছন্দের স্থান।
গুগল কোড(www.code.google.com): মুক্তসোর্স প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করার লক্ষে গুগলের একটি প্রচেষ্টা। গুগল নিজেদের মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলো এখানে হোস্ট করার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহাকারীদেরও এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
কোডপ্লেক্স(www.codeplex.com): ওপেন সোর্স কমিউনিটির আরও একটি জনপ্রিয় স্থান। এটি মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এটি তত্ত্বাবধায়ন করা হয়ে থাকে। নিজে শুরু করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার প্রকল্পের যেকোনোটিতেই সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে।

এগুলো ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড, মোজিলা, অ্যাপাচি, ফেডোরার মত বানিজ্যিক প্রকল্পসমূহে যুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-16/news/185948

মুক্ত সোর্সে কাজ শুরু করেছে মাইক্রোসফট

মুক্ত সোর্স প্রযুক্তির বিষয়ে সফটওয়্যার তৈরি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট সব সময়ই বিরূপ মনোভাব পোষণ করে আসছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী স্টিভ ব্যালমার লিনাক্সকে ক্যানসার রোগের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মেধাসত্ত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ।

অপর দিকে ২০০৭ সালে মাইক্রোসফট লিনাক্সসহ অন্যান্য বেশ কিছু মুক্ত সফটওয়্যার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের ২০০টি পেটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহারের অপরাধে অভিযুক্ত করেছেন। তবে সম্প্রতি মাইক্রোসফটের ব্যবস্থাপক জেন পাওলি মাইক্রোসফট এবং মুক্ত সোর্স এই দুই কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ তৈরির বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মুক্ত সোর্স বিষয়ে মাইক্রোসফটের অতীতের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের অবস্থান সঠিক ছিল না । সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওপেন সোর্স পছন্দ করি, এখন থেকে আমার ওপেন সোর্সের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।

সাধারণভাবে মাইক্রোসফট ওপেন সোর্সের কার্যক্রম সম্পর্কে সন্দিহান থাকায় লিনাক্সকে তারা অবিশ্বাস করত। তবে এটি বেশ অনেক দিন আগের কথা। এখন এ বিষয়ে আমাদের মনোভাব পরিবর্তন হয়েছে এবং আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। মাইক্রোসফট এখন মুক্ত স্ট্যান্ডার্ডের ওপর আস্থা এনেছে এবং ওপেন সোর্সের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’ সম্প্রতি মাইক্রোসফট একটি মুক্ত ডাটা প্রটোকল তৈরি করার কাজ করছে।

বিভিন্ন প্রোগ্রামের মধ্যে তথ্যসমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার এবং সেবাপ্রদানের জন্যই মূলত এই প্রটোকল তৈরি করা হচ্ছে। অন্যান্য ওপেন সোর্স কমিউনিটির ডেভলপাররা যেন এই উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত হতে পারে, সেই লক্ষ্যে এটির পিএইচপি এবং জাভা-ভিত্তিক ডেভলপমেন্ট কিট প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণভাবে মাইক্রোসফট এ ধরনের ডেভলপমেন্ট কিটগুলো তাদের মালিকানাধীন ডট নেট প্লাটফর্মের উপযোগী করে তৈরি করে থাকে।

সূত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-08-30/news/90414

উবুন্টু লাইভ(বুটেবল) ইউএসবি তৈরী করা


উবুন্টু বর্তমান সময়ের সবথেকে জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন। ইন্টারনেট থেকে বিনামূল্যে এটি ডাউলোড(www.ubuntu.com) করা যায়। ওয়েবসাইট থেকে যে ফাইলটি ডাউনলোড করা হয় সেটি এমন একটি ফাইল যে সেটি সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। উবুন্টু আইএসও সিডিতে বার্ণ করার পরই কেবল এটি ব্যবহার করা যায়। তবে কিছুদিন থেকে সিডিতে বার্ণ করা ছাড়াও পেনড্রাইভের মত ইউএসবি ড্রাইভ থেকে উবুন্টু লাইভ সিডির বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। ইনস্টল করা হয়েছে এমন উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেম থেকে লাইভ ইউএসবি ডিভাইস তৈরী করা যায়।  উবুন্টুতে বুটেবল ইউএসবি তৈরী করার জন্য Startup Disk Creator নামের সফটওয়্যার দেয়া থাকে সেটি ব্যবহার করেও এই ধরনের লাইভ ইউএসবি তৈরী করা যাবে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম থেকে লাইভ ইউএসবি ডিভাইস তৈরী করার জন্য “UNetbootin(http://unetbootin.sourceforge.net/)” নামের একটি সফটওয়্যার রয়েছে। মূলত উইন্ডোজের জন্য তৈরী করা হলেও লিনাক্সে ইনস্টলের উপযোগী সংস্করণও পাওয়া যায়। এই সফটওয়্যারের আরও একটি বিশেষত্ব হল এটি দিয়ে প্রায় সব ধরনের লিনাক্সের লাইভ ইউএসবি তৈরী করা যাবে ।

ইউএসবি থেকে বুট করতে হলে বিস্তারিত পড়ুন

ডাউনলোডের পর উবুন্টু ISO পরীক্ষা করা

উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেম ইন্টারনেট থেকে সরাসরি ডাউনলোড করা যায়। .iso ফরম্যাটের একটি ফাইল ডাউনলোড করে  সিডিতে বার্ণ করে অথবা ইউএসবি ড্রাইভ বুটেবল হিসাবে ফরম্যাট করে সেটি থেকে ইনস্টল করা যাবে। এছাড়া উবুন্টু ডেক্সটপ সংস্করণটি ইনস্টল ছাড়াও লাইভ সিডি/ইউএসবি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। একটি অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ তাই ডাউনলোডের সময় কোন ত্রুটি থাকলে পরবর্তীতে ইনস্টল অথবা ব্যবহারের সময় অসুবিধা হবে। তবে সঠিকভাবে সম্পূর্ণ অংশ ডাউনলোড করা হয়েছে কিনা সেটি পরীক্ষা করা যায়। উইন্ডোজ অথবা লিনক্স থেকে পরীক্ষা করার পদ্ধতিটি নিচে দেখানো হল।


লিনাক্স থেকে পরীক্ষা করা


টারমিনাল (Application >> Accessories >> Terminal) ওপেন করুন এবং সেখান থেকে উবুন্টু আইএসওটি রাখা হয়েছে এমন ফোল্ডারে যান। যেমন ফাইলটি যদি ডেক্সটপে রাখা থাকে তবে টারমিনাল ওপেন বিস্তারিত পড়ুন

কম্পিউটার ব্যবহার করে মহাকাশ জানা

কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি বছর উপলক্ষে গিগাগ্যালাক্সি (www.gigagalaxyzoom.org) ঠিকানার একটি ওয়েবসাইটে মহাবিশ্বের তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের সৌরজগত্ যে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার ছবি, পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় এমন ১৫টি অংশের আলাদা বর্ণনা এবং উচ্চ রেজুলেশনের ছবি দেওয়া হয়েছে। সমতলভাবে না দেখে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে www.sergebrunier.com/gallerie/pleinciel/360.swf ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে এসব ছবি। Stellarium (www.stellarium.org) একটি মুক্ত সফটওয়্যার, যেটি দিয়ে মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহনক্ষত্র দেখা যাবে। সফটওয়্যারটি চালু করার পর প্রথমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্দিষ্ট করে দিতে হয়। ওই অবস্থান থেকে আকাশের কোনো দিকে তাকালে আকাশে সেই সময়ে যে নক্ষত্রগুলো থাকবে, সেটি দেখা যাবে। এবং এখানে প্রায় প্রতিটি নক্ষত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অধিকাংশেরই কিছুটা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আবার চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবীর অবস্থান কেমন থাকে, সেটিও জানা যাবে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে। শুধু আকাশ দেখাই নয়, এর সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক আরও বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে এই সফটওয়্যার থেকে।
Celestia (www.shatters.net/celestia/index.html)
মহাকাশ দেখার আরও একটি সফটওয়্যার। অন্য সব সফটওয়্যারই পৃথিবী থেকে মহাকাশ কেমন দেখা যাবে সেটি দেখায়, তবে এখানে মহাকাশ থেকে এর অন্য অংশ কেমন দেখাবে, সেটি জানা যাবে। সফটওয়্যারের মেনুতে বিভিন্ন গ্রহ ভ্রমণ করে দেখার অপশন যুক্ত হয়েছে। http://www.celestiamotherlode.net/catalog/educational.php/ ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে এই সফটওয়্যারটির সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী বেশ কিছু প্রোগ্রাম পাওয়া যাবে।
সফটওয়্যার ছাড়াও ইন্টারনেট থেকে অ্যাস্ট্রোনমি সম্পর্কে বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে। নাসা প্রতিদিন মহাকাশবিষয়ক একটি করে ছবি এবং সেটির একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রকাশ করে থাকে। এসব ছবি দেখা বা নামিয়ে নেওয়া যাবে www.apod.nasa.gov/apod/archivepix.html ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে। মহাকাশ বিষয়ক নানা তথ্যনিয়ে গুগলের ওয়েবসাইট হচ্ছে www.google.com/sky। সৌরজগত্, গ্যালাক্সি এবং বিভিন্ন সময় ধারণ করা মহাজাগতিক ঘটনার ছবি দেখা যাবে এখানে।
আর মহাবিশ্বের সব ধরনের খবর নিয়ে তৈরি আছে ইন্টারনেটের মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া। অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে উইকিপিডিয়ায় একটি পোর্টাল তৈরি করা আছে। ওয়েব পোর্টালটির ঠিকানা http://en.wikipedia.org/wiki/Portal:Astronomy

গুগলের জাভাস্ক্রীপ্ট অপটিমাইজেশন টুল এর সোর্সকোড প্রকাশ করা হয়েছে


গুগলের কোটি কোটি ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত জিমেইল, গুগল ডক, গুগল ম্যাপ এর মত যেসকল অ্যাপলিকপশন ব্যবহার করছে সেগুলির বেশীরভাগ অংশই জাভাস্ক্রীপ্টের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা ।  যে টুলগুলি ব্যবহার করে গুগল এই ওয়েব ভিত্তিক সেবাগুলি তৈরী থাকে সেগুলির কোড সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এই টুলগুলি ব্যবহার করে দ্রততর, শক্তিশালী এবং কার্যকরী ওয়েব অ্যাপলিকেশন তৈরী করা সম্ভব হবে।  এই উন্নত অ্যাপলিকেশনগুলি ওয়েব সার্চ বা ওয়েব ব্রাউজার থেকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

==Closure Compiler==


Closure Compiler(code.google.com/closure/compiler)
একটি জাভা স্ক্রীপ্ট অপটিমাইজেশন টুল । এটি ব্যবহার করে সহজেই একটি বড় আকারের কোড থেকে সমান কার্যকরী ছোট কোডে রুপান্তর করা যায়।  ত্রুটিপূর্ণ কোড, syntax এর ভুল, variable references ও  ধরণ এবং জাভাস্ক্রীপ্টের সাধারণ ত্রুটি গুলি বিস্তারিত পড়ুন