অ্যান্ড্রয়েডের লুকানো ১০ টিপস

আন্তর্জাতিক স্মার্টফোন বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ শতাংশ বাজার দখল করে আছে অ্যান্ড্রয়েড। মূল ইন্টারফেসসহ অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ ব্যবহারকারী তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে। পছন্দের ওয়ালপেপার বেছে নেওয়া, কন্টাক্ট লিস্টের ফোন নম্বরের সঙ্গে ছবি সংযোজন বা প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশনগুলোর শর্টকাট প্রথম পাতায় নিয়ে আসার মতো বৈশিষ্ট্যগুলো নতুন ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের লুকানো কিছু টিপস রয়েছে,যেগুলো অনেক কাজ সহজে করে দেবে।সূত্র: ইনফরমেশন উইক

অফলাইন গুগল ম্যাপ

অ্যান্ড্রয়েডের সঙ্গে গুগল ম্যাপস অ্যাপটি ইনস্টল করাই থাকে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে সরাসরি মানচিত্র দেখা যায়। তবে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও মানচিত্র দেখতে চাইলে আগে থেকেই নামিয়ে রাখতে পারেন। ফলে পরবর্তী সময়ে ওই নির্দিষ্ট এলাকার মানচিত্র দেখার সময় নতুন করে আর ম্যাপস নামবে না এবং ইন্টারনেট সংযোগ নেই, এমন জায়গা থেকেও ব্যবহার করা যাবে মানচিত্র।

গুগল ম্যাপস অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে Make this map area available offline নামের অপশন পাওয়া যাবে। ম্যাপস অ্যাপের নতুন সংস্করণে এই অপশনটি মূল মেন্যু থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন যে অংশের মানচিত্র অফলাইন হিসেবে নামিয়ে রাখা প্রয়োজন, সেই অংশপর্যন্ত জুম (বড় করে দেখা) করে সার্চ বক্সে ‘OK Maps’ লিখলে ম্যাপের ওই ওই অংশটি অফলাইন হিসেবে সংরক্ষিত হবে।

দরকার যখন তখন শুধু থ্রিজি

বর্তমানে প্রায় সব মোবাইল ফোন সেবাদাতা থ্রিজি নেটওয়ার্ক সুবিধা চালু করছে। প্রাথমিকভাবে এই সুবিধাটি নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক দেওয়া হচ্ছে। ফলে ওই নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে থ্রিজি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু তার পরও যদি সব সময় থ্রিজি অপশন চালু থাকে, তবে এটি থ্রিজি সংযোগ খুঁজবে, দ্রুত মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেটিংস থেকে শুধু জিএসএম সার্ভিস চালু রাখতে হবে এবং কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই থ্রিজি চালু রাখা উচিত।

লকস্ক্রিনে ব্যবহারকারীর তথ্য

সাধারণ নিরাপত্তার জন্য অ্যান্ড্রয়েডে লকস্ক্রিনে অপশনটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর (পিন), নিরাপত্তাসংকেত, বিশেষ প্যাটার্নের মাধ্যমে এই লক ব্যবহার করা যায়। তবে ফোনটি যদি কোথাও হারিয়ে ফেলেন এবং যিনি এটি পেয়েছেন, তিনি ওই ব্যবহারকারীকে ফেরত দিতে চাইলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো নম্বর দেখতে পারবেন না, কারণ ফোনটি লক করা আছে। অ্যান্ড্রয়েডের ৪.১ এবং এর পরবর্তী সংস্করণগুলোতে লকস্ক্রিনে ব্যবহারকারীর তথ্য লিখে রাখার সুবিধা যোগ করা হয়েছে। Security> Screen security থেকে Owner info সক্রিয় করা যাবে।

অভিধানে শব্দ যোগ

নিয়মিত ই-মেইল, এসএমএস লেখার সময় অনেক ক্ষেত্রেই এমন অনেক শব্দ লিখতে হয়, ফোনে থাকা অভিধানে নেই। আবার হয়তো অনেক মানুষের নাম লিখতে হচ্ছে, যেগুলো অভিধানে থাকার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু প্রয়োজন হলে এই শব্দগুলো অভিধানে যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। অভিধানে নেই এমন শব্দগুলোর ওপর দীর্ঘক্ষণ ক্লিক করে রাখলে সেটি অভিধানে যোগ করার অপশন দেখাবে এবং পরবর্তী সময় থেকে ওই শব্দ লেখার সময় অভিধান থেকেই পরামর্শ দেওয়া হবে।

কত ডেটা ব্যবহার করা হলো?

মোবাইলে সবাই যে অসীম ইন্টারনেট ব্যবহারের (আনলিমিটেড) প্যাকেজ নেন, এমন নয়। নির্দিষ্ট একটি প্যাকেজ ব্যবহার শুরু করার পর হঠাৎ যদি সেটি শেষ হয়ে যায়, তবে ব্যবহারকারীর জন্য অসুবিধার কারণ হয় দাঁড়ায়। তবে মোবাইলে কী পরিমাণ ডেটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্দিষ্ট একটি সীমানা অতিক্রম করার পর ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা দেখানোর অপশন রয়েছে। Settings>My Network>Data usage পাতা থেকে ডেটা ব্যবহার ও মনিটর করা যায় এবং সতর্কবার্তা দেখানোর বিষয়টিও এখানে নির্ধারণ করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডের পুরোনো সংস্করণগুলোতে এই অপশনটি নাও থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে গুগল প্লে থেকে ডেটা মনিটর অ্যাপ নামিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

ফেবারিট কন্টাক্ট

নিয়মিত কাজে লাগে, এমন কন্টাক্টগুলো ফেবারিট হিসেবে সংরক্ষণ করার সুবিধা রয়েছে। ফেবারিট কন্টাক্টগুলো আলাদা একটা গ্রুপ হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই কন্টাক্টগুলো হোম স্ক্রিনে দেখানোর সুবিধাও রয়েছে।

ক্যামেরা অ্যাপ থেকে কুইক রিভিউ

মোবাইলের ক্যামেরা সেটিংস থেকে কুইক রিভিউ অপশন বন্ধ থাকলেও খুব সহজেই ক্যামেরা অ্যাপ চালু করার পর আগের তোলা ছবিগুলো দেখা যায়। ক্যামেরা অ্যাপ স্ক্রিনের ওপরের বা নিচের কোণে এই প্রিভিউ অপশন থাকে। প্রথমবার ক্লিক করা হলে সর্বশেষ ছবিটি দেখা যাবে এবং এরপর ডানে গেলেআগের ছবিগুলো দেখতে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে একাধিক ছবি দেখার অপশনও রয়েছে এই প্রিভিউ পাতায়।

স্ক্রিনশট নেওয়া

অ্যান্ড্রয়েড জেলিবিন এবং পরবর্তী সংস্করণগুলোতে স্ক্রিনশট নেওয়ার সুবিধা আছে। এ জন্য স্ক্রিনলক বাটন এবং ভলিউম ডাউন বাটন একসঙ্গে চাপে ধরে রাখতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো স্ক্রিনে কোনো শাটার ক্লিক দেখা যায়। স্ক্রিনশট নেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি গ্যালারির একটি ফোল্ডারে সংরক্ষিত হতে থাকবে।

তথ্য সংরক্ষণ

বর্তমানে অ্যান্ড্র্রয়েড ফোনগুলোতে তথ্য রাখার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা (ইন্টারনাল স্টোরেজ) থাকে। একই সঙ্গে আলাদা মেমোরি কার্ড ব্যবহারেরও সুবিধা রয়েছে। তাই তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এটি পেনড্রাইভের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

দ্রুত মেসেজ পাঠানো

অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ এবং পরবর্তী সংস্করণগুলোতে যখন কোনো কল আসে, তখন ফোন রিসিভ করার অপশনের সঙ্গে এসএমএস পাঠানোর একটি অপশনও দেখানো হয়। এখানে আগে থেকেই লিখে রাখা কিছু বার্তা পাঠানো যায়। হয়তো ব্যবহারকারী সভায় আছেন এবং ওই সময়ে তার ওই ফোন কল ধরা সম্ভব নয়। এমন সময়ে এই বার্তাগুলো ব্যবহার করে দ্রুত জানিয়ে দেওয়া যায়। এই বার্তায় কী লেখা থাকবে, সেটি নির্ধারণ করা যাবে Phone>Settings>Quick Responses অথবা Settings>Call settings>Reject call with message মেন্যু থেকে।

সূত্র: ইনফরমেশন উইক

— নাসির খান

 

First published at Prothom Alo on November 22, 2013

http://www.prothom-alo.com/technology/article/79237

Advertisements

নতুন সফটওয়্যার অবমুক্ত করেছে গুগল

গত বছরের শেষ দিকে সার্চ ইঞ্জিন গুগল ‘নিক সফটওয়্যার’ প্রতিষ্ঠানটিকে অধিগ্রহণ করে। স্ন্যাপস্পিড নামের একটি আইফোন অ্যাপ এবং ডেস্কটপ সফটওয়্যারে ব্যবহার করা হয় এই সফটওয়্যারটি। এর পাশাপাশি শৌখিন ও পেশাদার ফটোগ্রাফারদের ব্যবহারের উপযোগী বেশ কিছু ছবি সম্পাদনার টুল তৈরি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাডবি ফটোশপ, এবং অ্যাপার্চারের সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহার করা যায় এই সফটওয়্যারগুলো। অধিগ্রহণের সময় এই সফটওয়্যারগুলো কিংবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক চুক্তির বিষয়ে কিছু জানায়নি।
সম্প্রতি গুগল নিক সফটওয়্যারের ছয়টি প্লাগ-ইনসের একটি বান্ডেল প্রকাশ করেছে ১৫৯ ডলারে। এই প্লাগ-ইনগুলো ফটোশপ এবং অ্যাপার্চারে ব্যবহার করা যাবে। ‘নিক কালেকশন বাই গুগল’ নামে প্রকাশিত এই বান্ডেলটি পূর্বের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাগ-ইনগুলো ১৫ দিন বিনা মূল্যে ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে গুগল। বান্ডেলে যে প্লাগ-ইনগুলো রয়েছে, সেগুলো হলো এইচডিআর ফটোগ্রাফি টুল ‘এইচডিআর ইফেক্স প্রো ২’, রঙিন ছবি সম্পাদনার জন্য ‘কালার ইফেক্স প্রো ৪’, সাদাকালো ছবি সম্পাদনা টুল ‘সিলভার ইফেক্স প্রো ২’, নির্দিষ্ট টোন নির্ধারণ এবং কালার কারেকশনের জন্য ‘ভিভেজা ২’, নয়েজ সম্পাদনার জন্য ‘সারপেনার প্রো ৩’ এবং ‘ডিফাইন২’।
গুগলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক গুন্ড্রোট্রা বলেন, গুগলের পক্ষ থেকে সব সময়ই নিক সফটওয়্যারের এই প্লাগ-ইনসগুলো প্রকাশ করা হবে। নতুন এই বান্ডেলটি প্রকাশ নিক সফটয়্যার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা তৈরি করবে। একই সঙ্গে আরও নতুন ব্যবহারকারী এই সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করবে। এ ছাড়া স্ন্যাপস্পিডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফটওয়্যারগুলো তৈরির ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষ যেন এটি সহজেই ব্যবহার করতে পারে এবং তাদের শিল্পীসত্ত্বাকে প্রকাশ করতে পারে। অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও গুগল এই উদ্দেশ্যকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে। —টেকক্রাঞ্চ অবলম্বনে নাসির খান

Published on Prothom-Alo 27 March, 2013, http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-27/news/339769

খুঁজে বের করুন হারিয়ে যাওয়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন

সাধারণ মোবাইল ফোনের পাশাপামিস্মার্টফোনের ব্যবহার এখন বেড়েছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা মোবাইল ফোনের ব্যবহার তো বেড়েই চলেছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায় অ্যাপ্লিকেশনস (অ্যাপস) ব্যবহার করে।যদি হঠাৎ ফোনটি হারিয়ে যায়, তবে নিয়মিত কাজগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। আবার এমনও হতে পারে, হয়তো বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইলটি সঙ্গে নেওয়া হয়নি। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন আছে।

১. হোয়্যার ইজ মাই ড্রয়েড (http://goo.gl/LImXw)
হারানো ফোন খুঁজে পাওয়ার জন্য হোয়্যার ইজ মাই ড্রয়েড অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অ্যাপ।হারিয়ে যাওয়া ফোনটির অবস্থান চিহ্নিত করা, সেটি খুঁজে পাওয়া এবং ফোনের তথ্য নিরাপদে রাখার জন্য এতে আছে বিভিন্ন সুবিধা। ফ্রি, লাইট এবং প্রো নামের আলাদা তিনটি সংস্করণ রয়েছে এর। ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে এসএমএসের মাধ্যমে ফোনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই অ্যাপ্লিকেশনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কমান্ডার নামে একটি অংশ রয়েছে। কমান্ডার সক্রিয় থাকলে অ্যাপ্লিকেশনটির মূল ওয়েবসাইট থেকে ফোনের অবস্থান নির্ণয় করা যায়।

২. অ্যাভাস্ট (http://goo.gl/F72Xa)
অ্যাভাস্ট অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। অ্যাপের একটি অংশ অ্যান্টিভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার স্ক্যান করে। আর অ্যাপটিতে App Disguiser এবং Stealth Mode নামের দুটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী অ্যাপটি লুকিয়ে রাখতে পারবেন। এটি বিশেষভাবে কার্যকর, যদি ফোনটি কখনো চুরি হয়ে যায়।
তবে অ্যাপ্লিকেশনটি আনইনস্টল করার পদ্ধতিটি বেশ জটিল। ইনস্টল করার পর যদি ফোনটি খোঁজা হয় কখনো, তা হলে অ্যাপটি আনইনস্টল করা একরকম অসম্ভব হয়ে যায়। অ্যাপ্লিকেশনটি নিজে থেকেই সিস্টেম রিস্টোর করতে পারে এবং ফোনের ইউএসবি পোর্ট বন্ধ করে দিতে পারে।

৩. প্ল্যান বি (http://goo.gl/0Z9ys)
তালিকার অন্য অ্যাপ্লিকেশনগুলো থেকে এটা কিছুটা আলাদা। ফোন হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়ার পর হয়তো মনে হতে পারে, যদি আগেই একটি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থাকত, তা হলে হয়তো ফোনটি খুঁজে পাওয়া যেত। আর এ ধরনের পরিস্থিতির জন্যই তৈরি করা হয়েছে প্ল্যান-বি অ্যাপটি। ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর গুগল প্লে সাইটে গিয়ে এই অ্যাপটি ইনস্টল ক্লিক করতে হবে। এরপর অ্যাপটি নিজে থেকেই ইনস্টল হয়ে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিপিএস চালু হয়ে যাবে। ফোনটির অবস্থান বের করার পরপরই একটি ই-মেইলের মাধ্যমে গুগল ম্যাপের লিংকসহ ফোনের অবস্থানটি জানিয়ে দেওয়া হবে।

৪. লুকআউট (http://goo.gl/QApgd)
লুকআউট হলো অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্রগুলোর উপযোগী অপর একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা এবং ব্যাকআপ নেওয়ার সফটওয়্যার। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে অ্যান্টিভাইরাস-সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফোনে থাকা নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও তথ্য ব্যাকআপ নেওয়ারও সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে। আর মোবাইল ফোন হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে এসএমএসের মাধ্যমে ফোন লক করে দেওয়া বা অবস্থান চিহ্নিত করার সুবিধাও রয়েছে এখানে।

৫. লস্ট ফোন (http://goo.gl/X73yq)
হারিয়ে যাওয়া ফোন খুঁজে পাওয়ার জন্য অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মতো একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে। যার মধ্যে রয়েছে এসএমএসের মাধ্যমে ফোন লক করে দেওয়া, ফোনের অবস্থান জানা। আবার ফোনের রিংটোন বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে, যেন ওই নম্বরে ফোন করা হলে সেটি খুঁজে পাওয়া যায়। আর এখানে আরও একটি বিশেষ সুবিধা হলো, যে সিম কার্ডটি লাগানো অবস্থায় এই অ্যাপটি ইনস্টল করা হয়েছে, সেটি পরিবর্তন করে অন্য কোনো সিম লাগানো হলে অ্যাপ সেটিংসে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট কয়েকটি নম্বরে নতুন সিম নম্বরটি এসএমএস হিসেবে চলে যাবে।

 

Published on: Prothom alo (24-08-2012) http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-08-24/news/283301

 

গুগল প্লাসে পছন্দমতো নাম

একেবারে শুরু থেকেই গুগল প্লাস তার ব্যবহারকারীদের বিশেষ কিছু সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গুগল প্লাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে বেশ দ্রুত। আর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট হিসেবে ফেসবুকের সঙ্গে স্বভাবতই তুলনা চলে আসে। গুগল প্লাস চালু হওয়ার প্রথম থেকেই এর ব্যবহারকারীদের অন্যতম চাহিদা ছিল প্রোফাইল এবং পেজগুলোর জন্য সংক্ষিপ্ত ইউআরএল ব্যবহারের সুবিধা যোগ করা। সম্প্রতি গুগল বেশ কিছু ব্যবহারকারী এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারের ইউআরএল ব্যবহারের সুবিধা চালু করেছে। যেমন টয়োটা কোম্পানির গুগল প্লাস প্রোফাইলের লিংক হবে www.google.com/+toyota
নতুন এই বৈশিষ্ট সম্পর্কে গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর জন্য এই বৈশিষ্ট্যটি চালু করা হলেও এটি গুগল প্লাসের সব ব্যবহারকারীর জন্যই উন্মুক্ত করা হবে। বর্তমানে গুগল প্লাস ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ইউআরএল হিসেবে ব্যবহারকারীর বেশ বড় আকারে আইডি দেখানো হয়। এমনকি এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেজ বা বিষয়ভিত্তিক পেজগুলোর জন্যও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রোফাইল আইডির বড় আকারের সংখ্যাটি স্মরণ রাখাও বেশ কষ্টকর। যার ফলে খুব অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানই নিয়মিতভাবে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে গুগল প্লাস প্রোফাইলটি ব্যবহার করত।
এখানে উল্লেখ্য, ফেসবুক ২০০৯ সালে প্রথম এই ধরনের বৈশিষ্ট্যটি চালু করেছিল। এবং সেই সময় থেকেই ব্যবহারকারীরা বিশেষত বিভিন্ন পেজের জন্য এই ধরনের ছোট আকারের ইউআরএল তৈরির বিষয়টি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। —টেক ক্রাঞ্চ অবলম্বনে নাসির খান

Published on: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-08-23/news/283032

গুগল ট্রান্সলেটরে ছবি থেকে অনুবাদ

সম্প্রতি গুগল ট্রান্সলেটর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই সংস্করণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ছবিতে থাকা কোনো লেখা অ্যাপের মাধ্যমে অনুবাদ করা যাবে। নতুন সংস্করণের অ্যাপটি থেকে ছবি তোলা একটি অপশন রাখা হয়েছে। ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি অথবা আগে থেকে সংরক্ষণ করা কোনো ছবি এই ট্রান্সলেশন অ্যাপের মাধ্যমে অনুবাদ করা যাবে। গুগল ডক থেকে বেশ অনেক দিন আগে থেকেই ছবি থেকে লেখায় স্থানান্তর করার সুযোগটি রয়েছে। ট্রান্সলেশনের নতুন অ্যাপে এই বৈশিষ্ট্যটি আরও বর্ধিত আকারে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। গুগল ট্রান্সলেটরে যে সব ভাষা থেকে অনুবাদ করা যায় তার সবগুলো এখনই এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত করা ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাচ, জার্মান, তুর্কি, রাশিয়ান, পর্তুগিজ, পোলিশ, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ ইত্যাদি।
অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ জিঞ্জারব্রেড বা এর পরবর্তী কোনো সংস্করণ ইনস্টল করা রয়েছে এমন সব ফোন বা ট্যাব থেকেই এই অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে। আর অনুবাদ করার কাজটি যেহেতু গুগলের মূল ইঞ্জিনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে, তাই এটি ব্যবহার করার সময় ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় হবে।
এর পাশাপাশি নতুন সংস্করণে স্পিচ ইনপুটের পদ্ধতিটি উন্নত করা হয়েছে, ফলে আঞ্চলিক পদ্ধতিতে উচ্চারণ করা হলেও মূল শব্দগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। হাতে লিখে ইনপুটের ক্ষেত্রেও জাপানি ভাষার মান উন্নয়ন করা হয়েছে।
—নাসির খান

Published at: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-08-18/news/282643

গুগল+ থেকে সরাসরি ওয়েবকাস্ট

গুগল+, সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই ওয়েব সেবাটি।শুরুর পর থেকেই যে বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার একটি হলো গুগল প্লাস হ্যাংআউটস। গুগল প্লাস হ্যাংআউটসের মাধ্যমে একজন গুগল প্লাস ব্যবহারকারী তার সার্কেলের অন্য একজন ব্যবহারকারীর সঙ্গে ভিডিও চ্যাট, ফাইল আদান, স্ক্রিন শেয়ারসহ অন্যান্য আরও অনেক ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আর এটি শুধু অপর একজন ব্যবহারকারীই নয়, সার্কেলের একাধিক বন্ধু অথবা একাধিক সার্কেলের সবার সঙ্গেই একই সঙ্গে হ্যাংআউটসে অংশগ্রহণ করা যায়। গুগল প্লাস চালু হওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই মোবাইল থেকে এই হ্যাংআউটস সুবিধাটি ব্যবহার করার জন্য স্মার্টফোন অ্যাপ প্রকাশ করা হয় আর এ সুবিধা দেওয়া হয় মোবাইল ফোনের সংস্করণটিতেও।
হ্যাংআউটসের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোর সঙ্গে প্রথম থেকেই আরও একটি বিষয় নিয়ে পরীক্ষা চলছিল, আর সেটি হলো সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ ব্রডকাস্ট)। প্রথম দিকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর জন্য এটি উন্মুক্ত ছিল। বর্তমানে গুগল প্লাস হ্যাংআউটস অন এয়ার” নামের এই বিশেষ সুবিধাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে গুগল প্লাসের সব ব্যবহারকারীর জন্য। হ্যাংআউটসের মূল কাজটি হলো অন্যান্য কিছু ব্যবহারকারী অথবা নির্দিষ্ট একটি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে হয়তো এমন কিছু ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রয়োজন যারা নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর সার্কেলে নেই অথবা প্রয়োজন হতে পারে বহু সংখ্যক ব্যবহারকারীর সঙ্গে একই সময়ে যোগাযোগ করা। সে ক্ষেত্রে সাধারণ হ্যাংআউটসের মাধ্যমে এই কাজটি করা যাবে না। অন এয়ার হ্যাংআউটসে গুগল প্লাসের মাধ্যমে এই কাজ করা যাবে। অনএয়ার হ্যাংআউটসে যেকোনো ব্যবহারকারীই অংশগ্রহণ করতে পারে। এবং এখানে সাধারণ হ্যাংআউটসের অন্যান্য সুবিধাও পাওয়া যাবে।
পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর এই বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়ভিত্তিক পাঠদান, গেম শো, মিউজিক কনসার্টসহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে। গুগল প্লাস হ্যাংআউটস অন এয়ারের মাধ্যমে লাইভ ব্রডকাস্ট করার ক্ষেত্রে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো। আর এসব সুবিধাই গুগল প্লাসের ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।
* প্রতিটি অন এয়ার গুগল প্লাস হ্যাংআউটসের একটি নির্দিষ্ট নামে প্রকাশিত হয়। ফলে সেটি গুগল সার্চের মাধ্যমে অন্য যে কেউ দেখতে পারবে, একই সঙ্গে এটি গুগল প্লাস স্ট্রিমেও দেখা যায়।
* হ্যাংআউটসগুলো শুধু যে গুগল প্লাস প্রোফাইল বা স্ট্রিমে দেখা যাবে তা-ই নয়, লাইভস্ট্রিমগুলো একই সময়ে ব্যবহারকারীর ইউটিউব চ্যানেল বা অন্যান্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও দেখা যাবে।
* হ্যাংআউটসে মোট কতজন অংশগ্রহণ করেছে বা কতজন সরাসরি সেটি দেখছে এটি জানতে পারা যাবে অন এয়ার ব্রডকাস্ট প্যানেল থেকে।
* সরাসরি সম্প্রচারের সময় এটি রেকর্ড হতে থাকে এবং শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভিডিওটি ব্যবহারকারীর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়। পাশাপাশি এটি গুগল প্লাসের মূল পোস্ট থেকেও দেখা যায়। ফলে লাইভ স্ট্রিমে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে এটি দেখা যাবে বা সেটি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাওয়া যাবে। গুগল ব্লগ অবলম্বনে

published at : http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-06-01/news/262232

মুক্ত সফটওয়্যার ঘিরে পেশা

মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংএর জগৎটি এমন যে এখানে যুক্ত থেকে কাজ করার জন্য সবসময়ই পেশাদার প্রোগ্রামার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিং এর কাঠামোটি এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন সৃজনশীল যে কেউই তার চিন্তাটি বিকশিত করতে পারে।
মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংভাষাগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রোগ্রামিং-এ খুব গভীর দক্ষতা ছাড়াই কাজ সম্পৃক্ত হওয়া যায়। উদাহারন হিসাবে পাইথন প্রোগামিং ভাষার কথা বলা যেতে পারে। পাইথন ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরী করা জন্য প্রোগ্রামিং দক্ষতার থেকে সৃজনশীলতার বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সাধারণত বহু সংখ্যক মানুষ সম্পৃক্ত থাকেন।এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ডেভলপাররা এই সকল প্রকল্পে যুক্ত হয়ে থাকেন। এখানে অন্যান্য ডেভলপারদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায় এবং একই সাথে দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অন্যান্যদের সহযোগীতা নেয়া যায়। এই সকল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে তা পরবর্তীতে পেশাদারি জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, ওরাকল ইত্যাদি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স প্রকল্পে সম্পৃক্ততারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। এবং এই প্রতিষ্ঠানসমূহ একাধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছে। এবং একই সাথে মুক্ত সোর্স প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ডেভলপারদের প্রতি বছরই এইসকল প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিছুদিন আগ পর্যন্তও মুক্ত সোর্স প্রকল্প বলতে কেবলমাত্র লিনাক্স বা জাভার কথা মনে হত, কিন্তু বর্তমানে এই ধারণাটি অনেকাংশেই বদলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন অ্যাপলিকেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভলপমেন্ট অন্যতম জনপ্রিয় একটি পেশা। আর এই ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা এবং দ্রুপালের মত কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এর ফলেই প্রয়োজন হচ্ছে এই ক্ষেত্রে দক্ষ ডেভলপারদের। জনপ্রিয় সিএমএসগুলোর প্রায় সবকয়টি মুক্ত সোর্স। এই সিএমএসগুলোর এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রাথমিক কাজটি যে কোনো ব্যবহারকারীই করতে পারে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানের ওয়েবসাইট খুব অল্প সময়ে তৈরী করা সম্ভব হয়। তবে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ঠ সংযোজনের জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ ডেভলপারের। এর পাশাপাশি বর্তমানে মুক্তসোর্স ডাটাবেজ, মোবাইল, ইকমার্স, ওয়েব সার্ভারের মত ক্ষেত্রগুলোতেও দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়ছে। মুক্ত সোর্স এই প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ভালো দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই এই কাজগুলো করতে পারা যাবে।

যেভাবে শুরু করতে হবে?
বর্তমানে সময়ে মুক্ত সোর্সের ক্ষেত্রটি এতটাই বিশাল যে সফলতা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে একটি পথ বলে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সফলতা পাওয়ার পূর্বশর্ত হল আগে কাজে নামতে হবে। আর এই বিষয়টি কখনোই নির্দিষ্ট নয় যে মুক্ত সোর্স নিয়ে কাজ করলে মালিকানাধিন বা প্রোপাইটরী কোনো প্রকল্পে কাজ করা যাবে না। বরং দুটি প্রকল্পই সমান ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ আছে। তবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পে যুক্ত হলে কি কি সুবিধা হতে পারে সে সম্পর্কে ধারনা দেয়া যেতে পারে। মুক্ত সোর্স প্রকল্প কাজ করলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। অধিকাংশ বড় প্রকল্পেই বিশ্বমানের প্রোগ্রামাররা যুক্ত থাকেন, এই সকল প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের সাহচার্যে কাজ করার সুয়োগ পাওয়া যায়, যা সহজে অন্য কোনো পথে পাওয়া সম্ভব না। এই সকল প্রকল্পে যুক্ত থেকে যে কাজগুলো করা হবে তার প্রতিটিই সিভিতে যোগ করা যাবে। এবং এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে এই মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত থাকে এবং এই অভিজ্ঞতা ভালো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন
প্রোগ্রামিং এর প্রথমিক ধারনা অর্জন করার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে লেখাপড়া করা বাধ্যতামূলক না। তবে এটি ঠিক যে কম্পিউটার বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রথমদিকে কিছুটা সুবিধা হতে পারে, কিন্তু ভালো মানের অন্যান্য যে কোনো প্রশিক্ষন কেন্দ্রথেকেই এই বিষয়গুলো শিখে নেয়া যায়। এরপর কাজে নামতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে এবং এই সময়টাতে শেখার কাজটি করতে হবে নিজেকেই। মুক্ত সোর্স প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবদানই সব থেকে বড় পরিচয়। প্রকল্পগুলোতে ভালো ভাবে কাজ করার মাধ্যমে সুনাম বাড়বে এবং এটিই দক্ষতার একটি বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিলেই যে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে এমনটি নয়।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোর ঠিকানা
সোর্সফোর্জ (www.sourceforge.net): তিন লক্ষেরও অধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্প এখানে হোস্ট করা আছে। প্রোগ্রামারদের অন্যতম পছন্দের স্থান।
গুগল কোড(www.code.google.com): মুক্তসোর্স প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করার লক্ষে গুগলের একটি প্রচেষ্টা। গুগল নিজেদের মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলো এখানে হোস্ট করার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহাকারীদেরও এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
কোডপ্লেক্স(www.codeplex.com): ওপেন সোর্স কমিউনিটির আরও একটি জনপ্রিয় স্থান। এটি মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এটি তত্ত্বাবধায়ন করা হয়ে থাকে। নিজে শুরু করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার প্রকল্পের যেকোনোটিতেই সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে।

এগুলো ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড, মোজিলা, অ্যাপাচি, ফেডোরার মত বানিজ্যিক প্রকল্পসমূহে যুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-16/news/185948