উইকিপিডিয়ার নিবন্ধের সাধারণ কাঠামো

উইকিপিডিয়াতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর নিবন্ধ রয়েছে। বিষয়ের উপর ভিত্তি করে নিবন্ধগুলোর আকার, তথ্যের পরিমান ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধই একটি সাধারণ গঠন পদ্ধতি থাকে। তবে সকল নিবন্ধই যে এই কাঠামোতে লেখা হয় এমন না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক নিবন্ধগুলোর জন্য নিবন্ধগুলোর আলাদা আলাদা কাঠামো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন  কোনো ব্যক্তি সম্পর্কিত নিবন্ধ এবং ঐতিহাসির স্থানের নিবন্ধের কাঠামো একই ধরনের হবে না। উইকিপিডিয়ার সাধরণ অনুচ্ছেদগুলো হল।

ভূমিকা

উইকিপিডিয়ার প্রতিটি নিবন্ধের একই ভূমিকা অনুচ্ছেদ থাকতে হয়। নিবন্ধটি সম্পর্কে সাধারন ধারনা দেয়া এবং সামগ্রিক বিষযের উপর আলোকপাত করা হয় এই অনুচ্ছেদে। নিবন্ধে বিশেষ কোনো অংশে বেশি গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন হলে সেই বিষয়টি এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হতে পারে। তবে কখনোই কোনো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাবে না এই অনুচ্ছেদে।

ইনফোবক্স

নিবন্ধে ভূমিকার মতই ইনফোবক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভূমিকাতে যে তথ্যগুলো বর্ণনার ভঙ্গিতে লেখা হয় তার অনেক তথ্যই সংযোজন করা হয় ইনফোবক্সে। তবে এখানে উল্লেখ করা হয় অত্যান্ত সংক্ষিপ্তভাবে। নিবন্ধের বিষয়ের সাথে সরাসরি যে তথ্যগুলোর জানার প্রয়োজন হতে পারে বা যে তথ্যগুলো উল্লেখ করা জরুরী সেগুলো সংযোজন করা হয় এই ইনফোবক্সে।

অন্যন্য অনুচ্ছেদ

নিবন্ধের প্রথম অনুচ্ছেদ হল “ভূমিকা”, “ইনফোবক্স” এই ভুমিকারই একটি অংশ। এর পরে নিবন্ধের বিষয় অনুযায়ী বিভিন্ন অনুচ্ছের সংযোজন করা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র

প্রতিটি নিবন্ধে তথ্যসূত্র অনুচ্ছেদটি থাকতে হবে। উইকিপিডিয়ার মূলনীতি অনুযায়ী নিবন্ধের প্রতিটি তথ্যে এর সূত্র উল্লেখ করতে হবে। উইকিপিডিয়াতে তথ্যসূত্র সংযোজনের কিছু নির্দিষ্ট ফরম্যাট রয়েছে।

আরও দেখুন

নির্দিষ্ট নিবন্ধের সাথে সম্পর্কিত উইকিপিডিয়ার অন্যন্য নিবন্ধের লিংক, বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক টেমপ্লেট, অন্যন্য উইকিপ্রকল্প যেমন উইকিমিডিয়া কমন্স, উইকি সংকলন ইত্যাদি স্থানে নিবন্ধের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লিংকগুলো যুক্ত করা হয়।

বহিঃসংযোগ

নিবন্ধের বিষয়ের সাথে প্রসঙ্গিক তথ্যের লিংক যুক্ত করা হয় এখানে। এই লিংকগুলো উইকিমিডিয়া বা এর অন্যান্য কোনো সহ প্রকল্পের লিংক নয়। অন্যান্য কোনো ওয়েবসাইট, বই বা অন্যন্য কোনো সূত্রের সংযোগগুলো উল্লেখ করা হয় এই অনুচ্ছেদে।

উইকিপিডিয়া কিভাবে ব্যবহার করবেন?

উইকিপিডিয়া একটি মুক্ত বিশ্বকোষ। এটি ইন্টারনেটের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এমন যেকেউ এই বিশ্বকোষটি ব্যবহার করতে পারবে। উইকিপিডিয়ার কোনো কাগজে ছাপানো সংস্করণ নেই। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এটি পড়া যাবে, প্রয়োজন্য ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট নিবন্ধগুলো সংরক্ষন করে রাখতে পারবেন। সংরক্ষন করে রাখার যাবে ওয়েব সাইট হিসাবে, পাশাপাশি পিডিএফ ফাইল হিসাবে ডাউনলোড করারও ব্যবস্থা রয়েছে উইকিপিডিয়াতে, আর পিডিএফ ফাইল তৈরী করা যাবে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধ থেকে আবার একাধিক নিবন্ধ একত্রিত করে পিডিএফ ফাইল তৈরীর অপশনও রয়েছে উইকিপিডিয়াতে।

উইকিপিডিয়া যেমন বিশ্বের সকলেই বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, পাশাপাশি এই বিশ্বকোষ তৈরীতে অবদান রাখতে পারে যে কোনো ব্যবহারকারীই। এই বৈশিষ্টটি একই সাথে উইকিপিডিয়ার মূল শক্তি আবার এটি উইকিপিডিয়ার একটি দুর্বলতা। এটি একটি মুক্ত বিশ্বকোষ ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানসম্পন্ন লেখক এখানে অংশগ্রহনের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সামগ্রভাবে উইকিপিডিয়াতে ভালো নিবন্ধের সংখ্যা বাড়ছে। আবার যেহেতু যেকেউই এটি সম্পাদনা করতে পারে  ফলে এখানে তথ্য বিকৃতি বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। যদিও এখানেও একইভাবে এই ভুল সংশোধনের সুযোগ উন্মুক্ত সকলের বিস্তারিত পড়ুন

উইকিপিডিয়ার কারিগরি সম্মেলনে

উইকিপিডিয়া এখন সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষ। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তৈরি করা এই বিশ্বকোষে খুঁজে পাওয়া যাবে যেকোনো বিষয়ের নিবন্ধ বা তথ্য। নিবন্ধ তৈরি, মান যাচাই, সম্পাদনার মতো কাজগুলো যেমন করে যাচ্ছে, বিভিন্ন দেশের লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক তেমনি উইকিপিডিয়া এবং এর অন্য সহপ্রকল্পগুলোর কারিগরি দিক দেখাশোনার কাজ করে যাচ্ছেন বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক।
১ থেকে ৩ জুন কারিগরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাসেবকেরা জার্মানির বার্লিন শহরে জড়ো হয়েছিলেন উইকিপিডিয়ার এক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য। ‘বার্লিন হ্যাকাথন ২০১২’ শিরোনামের এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ৩০টি দেশের ১৩০ জনেরও বেশি প্রোগ্রামার। বাংলাদেশ থেকে এই প্রতিবেদক এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
উইকিমিডিয়া জার্মানি ২০০৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বার্লিন শহরে উইকিপিডিয়ার প্রোগ্রামারদের নিয়ে হ্যাকাথনের আয়োজন করে আসছে।
এবার এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন।
উইকিপিডিয়ার মূল সফটওয়্যার মিডিয়াউইকি, এর বিভিন্ন এক্সটেনশন ডেভেলপার, উইকিপিডিয়ার সিস্টেম অ্যাডমিন, টুলসার্ভার ব্যবহারকারী, বট (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একধরনের প্রোগ্রাম) এবং টেমপ্লেট নির্মাতারা অংশ নিয়েছিলেন। সম্মেলনে উইকিপিডিয়ার বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দূর (বাগ ফিক্সিং) করার পাশাপাশি কারিগরি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উইকিপিডিয়ায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এমন সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য নিয়েও আলোচনা করা হয়। যেমন, উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোর জন্য টেমপ্লেট একটি খুব সাধারণ অংশ। টেমপ্লেটের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ তথ্য একটি নির্দিষ্ট ধরনে (ফরম্যাট) দেখানো হয়। মিডিয়াউইকির মূল সফটওয়্যারের সঙ্গে অতিরিক্ত পার্সার ফ্যাংশন ব্যবহার করে এ ধরনের টেমপ্লেট তৈরি করা হয়। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো দেরিতে খোলার একটি অন্যতম প্রধান কারণ এই টেমপ্লেটের ত্রুটি। এটি সমাধানের জন্য উইকিপিডিয়ায় খুব শিগগিরই যুক্ত করা হচ্ছে ‘লুয়া’ নামের একটি স্ক্রিপ্টিং ভাষা (www.mediawiki.org/wiki/lua_scripting)। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো পড়া এবং সম্পাদনার কাজের জন্য বেশ কিছু সাধারণ প্রোগ্রাম বা গেজেট ব্যবহার করা হয়। উইকিপিড়িয়ার প্রতিটি সহপ্রকল্পে এবং বিভিন্ন ভাষার সংস্করণে একই গেজেট যোগ করা হচ্ছে কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে আলাদা উইকি প্রকল্প থেকে। উইকিপিডিয়ার জন্য ‘রিসোর্স লোডার ২.০’ (www.mediawiki.org/wiki/resourceloader) নামের নতুন একটি সফটওয়্যার কাঠামো চালু করা হচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে এই টুলগুলো ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
অংশগ্রহণকারী ডেভেলপারদের এ বিষয়গুলো জানানো এবং ব্যবহারপদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি মাইএসকিউএল কোড অপটিমাইজেশন এবং নিরাপদ কোডিং পদ্ধতি নিয়েও টিউটরিয়াল দেখানো হয়েছে। আবার খুব সম্প্রতি উইকিপিডিয়ার সব উন্নয়ন বিশেষ এক পর্যালোচনা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। প্রোগ্রামারদের এই নতুন পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ব্যবহার পদ্ধতি জানানোর জন্য একাধিক প্রশিক্ষণ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। সংকেত লেখা (কোডিং) এবং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে উপস্থাপনারও আয়োজন করা হয়েছিল। এ ছাড়া অনেকেই তাঁদের নিজেদের প্রকল্প, বট বা স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করেছেন। ইন্টারনেট প্রটোকল ৬ (আইপিভি-৬) পরীক্ষা করা, সার্ভারের দক্ষতা বাড়ানো নিয়েও কাজ করেছেন ডেভেলপাররা। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকৌশল ও পণ্য উন্নয়ন বিভাগের প্রধান এরিক মোলার বলেন, ‘উইকিপিডিয়ার ডেভেলপার সম্প্রদায় আগে এতটা সক্রিয় ছিল না এবং এটি ছিল এ যাবৎকালের সব থেকে বড় হ্যাকাথন।’
উইকিপিডিয়ার কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিতভাবে ডেভেলপাররা কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের হ্যাকাথনে এমন অনেকেই অংশ নিয়েছেন, যাঁদের জন্য এটি ছিল উইকিপিডিয়ার প্রথম কোনো সম্মেলনে অংশ নেওয়া।
বার্লিন (জার্মানি) থেকে ফিরে নাসির খান

 

more details about Berlin Hackathon 2012 https://www.mediawiki.org/wiki/Berlin_Hackathon_2012

published at http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-06-15/news/265856

 

উইকিপিডিয়া – কী ও কেনো?

উইকিপিডিয়া হলো ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি জ্ঞানকোষ, যা গড়ে উঠেছে পৃথিবীর লাখ লাখ মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে।

উইকি-প্রযুক্তিনির্ভর ওয়েবপেজকে পড়ার পাশাপাশি সম্পাদনাও করা যায়, আর তা করার জন্য ওয়েব ব্রাউজার ছাড়া আর কোনো সফটওয়ার লাগে না। ইন্টারনেট ভিত্তিক বলেইপৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসেই উইকিপিডিয়া পড়া বা এতে তথ্য যোগ করার কাজ করা যায়।

মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জিমি ওয়েল্‌স ২০০১ সালে উইকিপিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে উইকিপিডিয়াতে কেবল ইংরেজি ভাষাই ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর ২৮৩টিরও অধিক ভাষায় উইকিপিডিয়ার সংস্করণ রয়েছে।

তার ইচ্ছা ছিল একটি বড়সড় অনলাইন বিশ্বকোষ তৈরি করা। তবে অন্যান্য বিশ্বকোষ ধারণার চেয়ে এটি আলাদা ছিল অন্য কারণে। এটি কোনো বেতনভোগী বিশেষজ্ঞ, সম্পাদক বা লেখক দিয়ে এই বিশ্বকোষ লেখানো হবে না, বরং এই বিশ্বকোষের লেখক হবেন তারা, যারা তা হতে চান! উইকি নামের একটি সফটওয়্যার; যা দিয়ে ওয়েবসাইটে সম্পাদনা, মোছা কিংবা পরিবর্ধন করা যায় সেটি ব্যবহার করে ওয়েলেস আর তার স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা গড়ে তুলেছেন এক বিশাল জ্ঞানভান্ডার যার সঙ্গে তুলনা চলে কেবল আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরির।

শুরুতে অর্থাৎ ২০০১ সালে অনেকে একে পাগলামি বলেছেন। আর এখন এটি এই গ্রহের সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষ। উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে রয়েছে ৩৮ লাখেরও বেশি বিষয়। অপরদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও অভিজাত বিশ্বকোষ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকায় রয়েছে ৫ লাখ আর মাইক্রোসফটের এনকার্টায় রয়েছে মাত্র বিস্তারিত পড়ুন

Wikimedia Foundation 2010–11 annual report

উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের ২০১০-২০১১ বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। গত বছরে উইকিপিডিয়া নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ভাষার উইকিপিডিয়া এবং উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্পগুলো নিয়ে প্রতিবেদন রয়েছে এই রিপোর্টে।

উইকিপিডিয়া রিপোর্টি দেখা যাবে এখানে

http://wikimediafoundation.org/wiki/Annual_Report

সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে

১৭ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবার বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জাকজমকভাবে পালিত হয় এই দিবসটি। এই বছর সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে প্রায় ১০০টির বেশি দেশে। শিক্ষা, ব্যবসা বানিজ্য, সরকারী কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার – এক কথায় বলতে গেলে দৈনন্দিন সকল ধরনের কাজ করার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরী এবং সার্বিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মূলত সকলে জন্য কম্পিউটার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য থেকেই এটি শুরু করা হয়েছে।

সফটওয়্যার ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্ব প্রথম এই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয় এবং বর্তমানে এটি একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা এই এই দিবসটি পালন করে আসছে। প্রতিবছরই অংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম বছর থেকেই ক্যানোনিকাল লিমিটেড এই উৎসবে প্রধান পৃষ্ঠপোষক , এছাড়া অন্যন্য পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গুগল , নোকিয়া, রেড হ্যাট, লাইনোড মেকার বট ইন্ডাস্ট্রি, লিনাক্স জার্নাল, জুমলা, ফ্রি সফটও্যার ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে- শুরুর কথা
স্টলম্যানের দেখিয়ে দেখা পথ অনুযায়ী ফ্রি/মুক্ত সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দৈনন্দিন সব ধরনের কাজ করার উপযোগী সফটওয়্যার তৈরী হতে থাকে। ২০০৪ এর জানুয়ারীর শুরুর দিকে ম্যাট ওকুয়েস্ট নামের একজন প্রোগ্রামার মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার বিতরণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক দিন ঘোষনার প্রস্তাব করেন। সেই সময় “দি ওপেন ডিস্ক” নামের একটি প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল যার মাধ্যমে মাইক্রোসফট উইন্ডোজে ব্যবহার উপযোগী মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার গুলো একত্রে বিতরণ করা হচ্ছিলো। খুব দ্রুত তার এই প্রস্তাডের উপর ভিত্তি করে “সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে” নামের এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং প্রথম বছবই বিশ্বের ৭০টি স্থানে এই দিবসটি পালন করা হয়। এবং প্রতি বছর এর সংখ্যা বাড়ছে।

মু্ক্ত সফটওয়্যার এবং সফটওয়্যার স্বাধীনতা

মুক্ত সফটওয়্যার বা ফ্রি সফটওয়্যার বলতে মূলত একই ধরনের সফটওয়্যারকে বুঝানো হয়ে থাকে। ফ্রি সফটওয়্যারের ফ্রি শব্দটি বিনমূল্য নয় বরং ফ্রিডম অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ধরনরে সফটওয়্যারগুলো কিছু বিশেষ লাইসেন্সের অধিনে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যেখানে সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। যেমন সফটওয়্যারগুলো যেকেউ ব্যবাহরের সুযোগ পাবে, সফটওয়্যারটির সোর্সকোড প্রকাশ করতে হবে যেন সফটওয়্যারগুলো কিভাবে কাজ করছে সেটি সম্পূর্ণভাবে জানার সুযোগ থাকে। ব্যবহারকারী তার পছন্দ অনুযায়ী এই সফটওয়্যারগুলো বিতরণ করতে পারবে এমনকি যদি সে সফটওয়্যারটি সম্পাদনা বা পরিবর্তন করে থাকে সেই পরিবর্তীত সংস্করণও বিতরণের অধিকার থাকবে ব্যবহারকারীর। প্রত্যেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে এই স্বাধিনতা নিশ্চিত করতেই মু্ক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
ফ্রি সফটওয়্যার এবং এর ধারনাটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন রিচার্ড স্টলম্যন নামের একজন মার্কিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কার্মরত অবস্থায় তিনি যে সময় থেকে এই আন্দোলনটি শুরু করেন তখন থেকেই সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যারের সাথে ব্যবহারকরীদের এর সোর্স কোড দেয়া বন্ধ করে দিতে শুরু করে। এ ধরনের প্রোপ্রায়েটারী সফটওয়্যার আগেও ছিল, কিন্তু আশির দশকের শুরু থেকে এটিই মূল ধারায় পরিণত হতে থাকে। ধিরে ধিরে স্টলম্যনের এই আন্দোলনে অধিক মানুষ অংশগ্রহন করতে থাকে। বর্তমানে বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমষ্টিগতভাবে ফ্রি বা মুক্ত সফটওয়্যারের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ।

সাধারণ ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যেই শুরু হয়েছিল মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলন। একে একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন হিসেবে রূপ দিয়েছেন রিচার্ড স্টলম্যান। কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিশাল এই ক্ষেত্রটি এককভাবে পরিচালনা করছে গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান। ব্যবহারকারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও তাদের দেখানো পথ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মালিকানাধিন সফটওয়্যারের উপর যে নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন হয় না, এই পথটি দেখানোর চেষ্টা করা হয় এই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে। প্রতি বছর বিশেষ এই দিনটির মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই কথাটি বার বার মনে করিয়ে দেয়া হয়।

বর্তমানে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় না। তবে মুক্ত/ফ্রি সফটওয়্যার বলতে যে শুরুমাত্র লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমকে বোঝানো হয় এমনটি নয় আবার এটি যে সকল ক্ষেত্রে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এই কথাটিও ঠিক না। মুক্ত সফটওয়্যার বলছে কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী সকল ধরনের সফটওয়্যাই হতে পারে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত মুক্ত সফরওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাউজার মজিলা ফায়ারফক্স, ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার, ওপেন অফিস, লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম,অ্যাপাচি সার্ভার, বাইন্ড, মেইল সার্ভার সেন্ডমেইল ও কিউমেইল ইত্যাদি।

বাংলাদেশে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই উৎসবটি পালন করা হচ্ছে। ঢাকার একাধিক স্থানে এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়ে থাকে। এছাড়া গত বছর ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায়ও এই দিনটি পালন করা হয়েছিল।

সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারা যাবে http://softwarefreedomday.org/ ঠিকানা থেকে।

মুক্ত সফটওয়্যার ঘিরে পেশা

মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংএর জগৎটি এমন যে এখানে যুক্ত থেকে কাজ করার জন্য সবসময়ই পেশাদার প্রোগ্রামার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিং এর কাঠামোটি এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন সৃজনশীল যে কেউই তার চিন্তাটি বিকশিত করতে পারে।
মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংভাষাগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রোগ্রামিং-এ খুব গভীর দক্ষতা ছাড়াই কাজ সম্পৃক্ত হওয়া যায়। উদাহারন হিসাবে পাইথন প্রোগামিং ভাষার কথা বলা যেতে পারে। পাইথন ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরী করা জন্য প্রোগ্রামিং দক্ষতার থেকে সৃজনশীলতার বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সাধারণত বহু সংখ্যক মানুষ সম্পৃক্ত থাকেন।এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ডেভলপাররা এই সকল প্রকল্পে যুক্ত হয়ে থাকেন। এখানে অন্যান্য ডেভলপারদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায় এবং একই সাথে দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অন্যান্যদের সহযোগীতা নেয়া যায়। এই সকল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে তা পরবর্তীতে পেশাদারি জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, ওরাকল ইত্যাদি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স প্রকল্পে সম্পৃক্ততারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। এবং এই প্রতিষ্ঠানসমূহ একাধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছে। এবং একই সাথে মুক্ত সোর্স প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ডেভলপারদের প্রতি বছরই এইসকল প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিছুদিন আগ পর্যন্তও মুক্ত সোর্স প্রকল্প বলতে কেবলমাত্র লিনাক্স বা জাভার কথা মনে হত, কিন্তু বর্তমানে এই ধারণাটি অনেকাংশেই বদলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন অ্যাপলিকেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভলপমেন্ট অন্যতম জনপ্রিয় একটি পেশা। আর এই ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা এবং দ্রুপালের মত কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এর ফলেই প্রয়োজন হচ্ছে এই ক্ষেত্রে দক্ষ ডেভলপারদের। জনপ্রিয় সিএমএসগুলোর প্রায় সবকয়টি মুক্ত সোর্স। এই সিএমএসগুলোর এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রাথমিক কাজটি যে কোনো ব্যবহারকারীই করতে পারে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানের ওয়েবসাইট খুব অল্প সময়ে তৈরী করা সম্ভব হয়। তবে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ঠ সংযোজনের জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ ডেভলপারের। এর পাশাপাশি বর্তমানে মুক্তসোর্স ডাটাবেজ, মোবাইল, ইকমার্স, ওয়েব সার্ভারের মত ক্ষেত্রগুলোতেও দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়ছে। মুক্ত সোর্স এই প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ভালো দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই এই কাজগুলো করতে পারা যাবে।

যেভাবে শুরু করতে হবে?
বর্তমানে সময়ে মুক্ত সোর্সের ক্ষেত্রটি এতটাই বিশাল যে সফলতা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে একটি পথ বলে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সফলতা পাওয়ার পূর্বশর্ত হল আগে কাজে নামতে হবে। আর এই বিষয়টি কখনোই নির্দিষ্ট নয় যে মুক্ত সোর্স নিয়ে কাজ করলে মালিকানাধিন বা প্রোপাইটরী কোনো প্রকল্পে কাজ করা যাবে না। বরং দুটি প্রকল্পই সমান ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ আছে। তবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পে যুক্ত হলে কি কি সুবিধা হতে পারে সে সম্পর্কে ধারনা দেয়া যেতে পারে। মুক্ত সোর্স প্রকল্প কাজ করলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। অধিকাংশ বড় প্রকল্পেই বিশ্বমানের প্রোগ্রামাররা যুক্ত থাকেন, এই সকল প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের সাহচার্যে কাজ করার সুয়োগ পাওয়া যায়, যা সহজে অন্য কোনো পথে পাওয়া সম্ভব না। এই সকল প্রকল্পে যুক্ত থেকে যে কাজগুলো করা হবে তার প্রতিটিই সিভিতে যোগ করা যাবে। এবং এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে এই মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত থাকে এবং এই অভিজ্ঞতা ভালো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন
প্রোগ্রামিং এর প্রথমিক ধারনা অর্জন করার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে লেখাপড়া করা বাধ্যতামূলক না। তবে এটি ঠিক যে কম্পিউটার বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রথমদিকে কিছুটা সুবিধা হতে পারে, কিন্তু ভালো মানের অন্যান্য যে কোনো প্রশিক্ষন কেন্দ্রথেকেই এই বিষয়গুলো শিখে নেয়া যায়। এরপর কাজে নামতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে এবং এই সময়টাতে শেখার কাজটি করতে হবে নিজেকেই। মুক্ত সোর্স প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবদানই সব থেকে বড় পরিচয়। প্রকল্পগুলোতে ভালো ভাবে কাজ করার মাধ্যমে সুনাম বাড়বে এবং এটিই দক্ষতার একটি বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিলেই যে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে এমনটি নয়।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোর ঠিকানা
সোর্সফোর্জ (www.sourceforge.net): তিন লক্ষেরও অধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্প এখানে হোস্ট করা আছে। প্রোগ্রামারদের অন্যতম পছন্দের স্থান।
গুগল কোড(www.code.google.com): মুক্তসোর্স প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করার লক্ষে গুগলের একটি প্রচেষ্টা। গুগল নিজেদের মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলো এখানে হোস্ট করার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহাকারীদেরও এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
কোডপ্লেক্স(www.codeplex.com): ওপেন সোর্স কমিউনিটির আরও একটি জনপ্রিয় স্থান। এটি মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এটি তত্ত্বাবধায়ন করা হয়ে থাকে। নিজে শুরু করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার প্রকল্পের যেকোনোটিতেই সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে।

এগুলো ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড, মোজিলা, অ্যাপাচি, ফেডোরার মত বানিজ্যিক প্রকল্পসমূহে যুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-16/news/185948