খুঁজে বের করুন হারিয়ে যাওয়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন

সাধারণ মোবাইল ফোনের পাশাপামিস্মার্টফোনের ব্যবহার এখন বেড়েছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা মোবাইল ফোনের ব্যবহার তো বেড়েই চলেছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায় অ্যাপ্লিকেশনস (অ্যাপস) ব্যবহার করে।যদি হঠাৎ ফোনটি হারিয়ে যায়, তবে নিয়মিত কাজগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। আবার এমনও হতে পারে, হয়তো বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইলটি সঙ্গে নেওয়া হয়নি। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন আছে।

১. হোয়্যার ইজ মাই ড্রয়েড (http://goo.gl/LImXw)
হারানো ফোন খুঁজে পাওয়ার জন্য হোয়্যার ইজ মাই ড্রয়েড অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অ্যাপ।হারিয়ে যাওয়া ফোনটির অবস্থান চিহ্নিত করা, সেটি খুঁজে পাওয়া এবং ফোনের তথ্য নিরাপদে রাখার জন্য এতে আছে বিভিন্ন সুবিধা। ফ্রি, লাইট এবং প্রো নামের আলাদা তিনটি সংস্করণ রয়েছে এর। ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে এসএমএসের মাধ্যমে ফোনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই অ্যাপ্লিকেশনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কমান্ডার নামে একটি অংশ রয়েছে। কমান্ডার সক্রিয় থাকলে অ্যাপ্লিকেশনটির মূল ওয়েবসাইট থেকে ফোনের অবস্থান নির্ণয় করা যায়।

২. অ্যাভাস্ট (http://goo.gl/F72Xa)
অ্যাভাস্ট অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। অ্যাপের একটি অংশ অ্যান্টিভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার স্ক্যান করে। আর অ্যাপটিতে App Disguiser এবং Stealth Mode নামের দুটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী অ্যাপটি লুকিয়ে রাখতে পারবেন। এটি বিশেষভাবে কার্যকর, যদি ফোনটি কখনো চুরি হয়ে যায়।
তবে অ্যাপ্লিকেশনটি আনইনস্টল করার পদ্ধতিটি বেশ জটিল। ইনস্টল করার পর যদি ফোনটি খোঁজা হয় কখনো, তা হলে অ্যাপটি আনইনস্টল করা একরকম অসম্ভব হয়ে যায়। অ্যাপ্লিকেশনটি নিজে থেকেই সিস্টেম রিস্টোর করতে পারে এবং ফোনের ইউএসবি পোর্ট বন্ধ করে দিতে পারে।

৩. প্ল্যান বি (http://goo.gl/0Z9ys)
তালিকার অন্য অ্যাপ্লিকেশনগুলো থেকে এটা কিছুটা আলাদা। ফোন হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়ার পর হয়তো মনে হতে পারে, যদি আগেই একটি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থাকত, তা হলে হয়তো ফোনটি খুঁজে পাওয়া যেত। আর এ ধরনের পরিস্থিতির জন্যই তৈরি করা হয়েছে প্ল্যান-বি অ্যাপটি। ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর গুগল প্লে সাইটে গিয়ে এই অ্যাপটি ইনস্টল ক্লিক করতে হবে। এরপর অ্যাপটি নিজে থেকেই ইনস্টল হয়ে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিপিএস চালু হয়ে যাবে। ফোনটির অবস্থান বের করার পরপরই একটি ই-মেইলের মাধ্যমে গুগল ম্যাপের লিংকসহ ফোনের অবস্থানটি জানিয়ে দেওয়া হবে।

৪. লুকআউট (http://goo.gl/QApgd)
লুকআউট হলো অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্রগুলোর উপযোগী অপর একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা এবং ব্যাকআপ নেওয়ার সফটওয়্যার। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে অ্যান্টিভাইরাস-সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফোনে থাকা নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও তথ্য ব্যাকআপ নেওয়ারও সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে। আর মোবাইল ফোন হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে এসএমএসের মাধ্যমে ফোন লক করে দেওয়া বা অবস্থান চিহ্নিত করার সুবিধাও রয়েছে এখানে।

৫. লস্ট ফোন (http://goo.gl/X73yq)
হারিয়ে যাওয়া ফোন খুঁজে পাওয়ার জন্য অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মতো একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে। যার মধ্যে রয়েছে এসএমএসের মাধ্যমে ফোন লক করে দেওয়া, ফোনের অবস্থান জানা। আবার ফোনের রিংটোন বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে, যেন ওই নম্বরে ফোন করা হলে সেটি খুঁজে পাওয়া যায়। আর এখানে আরও একটি বিশেষ সুবিধা হলো, যে সিম কার্ডটি লাগানো অবস্থায় এই অ্যাপটি ইনস্টল করা হয়েছে, সেটি পরিবর্তন করে অন্য কোনো সিম লাগানো হলে অ্যাপ সেটিংসে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট কয়েকটি নম্বরে নতুন সিম নম্বরটি এসএমএস হিসেবে চলে যাবে।

 

Published on: Prothom alo (24-08-2012) http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-08-24/news/283301

 

স্মার্টফোনের চার্জ বাঁচান

বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারের অনেক বৈশিষ্ট্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। আগে কম্পিউটার দিয়ে করতে হতো এমন অনেক কাজই এখনকার আধুনিক স্মার্টফোন দিয়ে করা যাচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বহু ধরনের গেম এবং কাজের অ্যাপ। আর এই এত ধরনের অ্যাপ চালানোর ফলে ফোনের ব্যাটারির চার্জও কমে যায় দ্রুত। তবে অনেক অ্যাপ ব্যবহার করলেই যে ব্যাটারির চার্জ খুব দ্রুত কমে যাবে, ব্যাপারটি এমনও নয়। খুব সাধারণ কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এ ধরনের অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

ভালো ও খারাপ মানের অ্যাপ সম্পর্কে জানুন: স্মার্টফোনের জন্য যে লক্ষাধিক অ্যাপ রয়েছে তার মধ্যে এমন অনেক অ্যাপ আছে যেগুলোর প্রোগ্রামিং ত্রুটি অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপগুলো মোবাইলের পাওয়ার ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক নয়। ফলে এ ধরনের অ্যাপগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকে, যখন সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসভিত্তিক ডিভাইসগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাটারির ব্যবহার মনিটরিং করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ রয়েছে। বেশ কিছু অ্যাপ মনিটর করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন কীভাবে ব্যবহার করলে আরও দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকবে, সেটিরও পরামর্শ দেয়।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকরীদের জন্য জুস ডিফেন্ডার নামের (http://goo.gl/vibyI) একটি জনপ্রিয় অ্যাপ রয়েছে। স্মার্টফোনটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার জন্য এই অ্যাপ বেশ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে, যেমন, ৩জি/৪জি বা ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় ব্যাটারি-ব্যবস্থাপনা। নির্দিষ্ট সার্ভিসগুলো চালু বা বন্ধ করার জন্য সিডিউল নির্ধারণ করে দেওয়া, নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াইফাই বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি।

ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন অ্যাপগুলো চালু আছে: এমন ঘটনা হতেই পারে, যে অ্যাপগুলো বন্ধ আছে বলে ধরণা করা হলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে এবং যার ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্মার্টফোনের ব্যাটারি খরচ হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে এ ধরনের অ্যাপগুলো খুঁজে বের করার কাজটি বেশ সহজ। আইওএস থেকে হোম বাটনে দুবার ক্লিক করে এই তালিকাটি পাওয়া যাবে।
অ্যান্ড্রয়েডে ‘সেটিংস’ থেকে ‘অ্যাপলিকেশন’-এ যেতে হবে এবং সেখানে ‘রানিং সার্ভিসেস’ ট্যাব থেকে চালু রয়েছে এমন অ্যাপের তালিকা দেখা যাবে। বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে না এমন অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া যাবে এখান থেকে। তবে কিছু সিস্টেম অ্যাপ সব সময়ই চালু থাকবে, সিস্টেম অ্যাপগুলো বন্ধ করা হলে অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারে অসুবিধা হতে পারে। যেমন, জিমেইল অ্যাপটি নতুন কোনো ই-মেইল আসছে কি না, সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চেক করে। এই সার্ভিসটি বন্ধ করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ই-মেইলের নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে না।
স্মার্টফোনগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ সিনক্রোনাইজেশনের অপশন থাকে। কিছু কিছু অ্যাপের নিয়মিত সিঙ্ক করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এমন বেশ কিছু অ্যাপ আছে যেগুলোর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক বন্ধ রাখা যেতে পারে। যেমন, যোগাযোগের জন্য প্রতিনিয়ত ই-মেইল চেক করা প্রয়োজনীয় হতে পারে, কিন্তু সব সময়ের জন্য ফ্লিকার, আবহাওয়ার খবর জানার অ্যাপগুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ না-ও হতে পারে।

চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাটারি ঠান্ডা জায়গায় রাখুন: অধিকাংশ স্মার্টফোনে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত যে অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রায় এ ধরনের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়। এ ধরনের ব্যাটারিগুলো ৩২ থেকে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে সঠিকভাবে কার্যকর থাকে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ব্যবহার করা হলে ফোনের কার্যক্ষমতা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ফোনের তাপমাত্রা যেন খুব দ্রুত বেড়ে না যায়, সে জন্য সাধারণ কিছু অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন, যেমন, সরাসরি সূর্যের আলোয় ব্যবহার না করা, পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো, ফোনের সঙ্গে যদি ফোনকভার বা অন্যান্য কিছু ব্যবহার করা হয়, চার্জ করার সময় সেটি খুলে রাখা, চলাফেরার সময় ফোনটি সব সময় হাতে না রেখে ব্যাগ বা বেল্ট ক্লিপের সঙ্গে রাখা উচিত। ব্যাটারি অতিরিক্ত চার্জ করা হলেও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই সব সময়ই মুঠোফোনটি চার্জারের সঙ্গে লাগিয়ে না রেখে যখন চার্জ কমে যাবে, কেবল তখনই চার্জে দেওয়া উচিত।

শুধু প্রয়োজনের সময় ফোরজি ব্যবহার করুন: স্মার্টফোনগুলোতে এখন থ্রি-জি বা ফোর-জি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা যোগ করা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য প্রচুর পরিমাণ ব্যাটারির পাওয়ার প্রয়োজন হয় এবং নেটওয়ার্ক দুর্বল রয়েছে, এমন এলাকায় ব্যাটারি শেষ হয়ে যাবে আরও দ্রুত। আবার এমন যদি হয়, ব্যবহারকারী নতুন একটি জায়গায় যাচ্ছেন যেখানে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। সে ক্ষেত্রে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা যেতে পারে, আবার নতুন জায়গা খুঁজে পাওয়ার জন্য ফোনের জিপিএস বিশেষ সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এই সেবাটি সব সময়ের জন্য ওপেন করে রাখা উচিত নয়। ব্লু-টুথের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে।
নতুন স্মার্টফোনগুলোর ব্যাটারির একটি বড় অংশ খরচ হয় উচ্চ রেজ্যুলেশনের উজ্জ্বল স্ক্রিনের জন্য। সব সময় একটি উজ্জ্বল স্ক্রিন দেখানোর চেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঔজ্জ্বল্য নিয়ন্ত্রণ করার অপশনটি অধিক কার্যকর।

বাড়তি একটি ব্যাটারি, চার্জার রাখুন: দীর্ঘ সময় ব্যাটারি ব্যবহার করার বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করার পরও যদি ফোন চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর না হয়, তবে একাধিক ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেন একটির চার্জ শেষ হলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়। তবে আইফোন বা এ ধরনের কিছু ডিভাইসে ব্যাটারি পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। সেখানে ব্যাটারি বুস্টার বা অতিরিক্ত চার্জার কেনা যেতে পারে।

–ইয়াহু নিউজ অবলম্বনে

নাসির খান

published in http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-13/news/273110

স্মার্টফোন কেনার আগে

মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে বেশ অনেক দিন থেকেই। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিতভাবে মোবাইল ফোনগুলোতে যোগ করা হচ্ছে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য। আগের বিলাসী ফোনগুলোর সব বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাচ্ছে এখনকার সাধারণ মানের ফোনসেটগুলোতেও। ইদানীং স্মার্ট ফোনগুলোর প্রতি ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ লক্ষ করা যাচ্ছে। হঠাৎ করে কিনে ফেলার আগে জেনে নিন এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে।
আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস, ব্ল্যাকবেরির অপারেটিং সিস্টেম বিবিওএসের খোঁজখবর রাখেন অনেকেই। আবার গুগলের তৈরিঅ্যান্ড্রয়েড নামের মুক্ত সোর্স মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমভিত্তিক মোবাইল ফোন তৈরি শুরু করেছে অনেক মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, পাশাপাশি নতুন উইন্ডোজ মোবাইল ওএসভিত্তিক মোবাইলও বাজারজাত শুরু হয়েছে। কেনার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন ফোনটি নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের সাম্প্রতিকতম সংস্করণ থাকে অথবা এটি নতুন সংস্করণে আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।

অ্যাপ মার্কেট

বর্তমানে অ্যাপেল অ্যাপস্টোরে রয়েছে সর্বোচ্চ অ্যাপস (পাঁচ লাখের বেশি), আর এর পরপরই রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট বা গুগল প্লে-তে (চার লাখের বেশি), ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজ মোবাইলেরও রয়েছে নিজস্ব অ্যাপ সেন্টার। এখানে যেমন রয়েছে বিনা মূল্যে ব্যবহার করার মতো অ্যাপ, আবার কিছু অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য কিনে নিতে হবে ওই নির্দিষ্ট বিস্তারিত পড়ুন

অ্যান্ড্রয়েডে বাংলা লিখুন

মায়াবী কীবোর্ড অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম-চালি স্মার্টফোনে বাংলা লেখার একটি সফটয়্যার। এন্ড্রয়েড ২.১ এবং এর পরবর্তী সকল সংস্করনে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে অ্যান্ড্রয়েড সেটটিতে যদি বাংলা সমর্থন না করে তবে এটি দিয়ে বাংলা লেখা দেখা যাবে না। তাই ইনস্টল করার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নেয়া যেতে পারে। বাংলা সমর্থন করে কিনা সেটা পরীক্ষা করার সহজ পদ্ধতি হল অ্যান্ড্রয়েড ওয়েব ব্রাউজার থেকে http://bn.wikipedia.org ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলা উইকিপিডিয়া খোলা। যদি পাতাটিতে বাংলা লেখা পড়া যায় তবে সেটটি বাংলা সমর্থন করে। না হলে সেটে এই কীবোর্ডটি ব্যবহার করা যাবে না। এটি একটি ফ্রি অ্যাপ তাই অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট থেকে বিনামূল্যে এটি ডাউনলোড করা যায়। ইনন্টল করার পর Settings>> Languages থেকে মায়াবী কীবোর্ড নির্বাচন করে বাংলা লেখার অপশনটি সক্রিয় করতে হবে। এই কীবোর্ড দিয়ে বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখা যায়। ডিফল্ট হিসাবে সবসময় ইংরেজি নির্ধারন করা থাকে, বাংলা লেখার পূর্বে কীবোর্ড থেকে তাই বাংলা অপশনটি চালু করে নিতে হবে। এই ফ্রি অ্যাপলিকেশনটির প্রধান বৈশিষ্টগুলো হল, ফনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লেখা যায়, ইংশেজি কীবোর্ড রয়েছে, অতিরিক্ত হিসাবে বেশ কিছু স্লাইলি এবং চিহ্ন লেখার ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রতি ফ্রি সংস্করনের পাশাপাশি মায়াবী কীবোর্ডের একটি প্রিমিয়াম সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। ফ্রি সংস্করনের বৈশিষ্টগুলোর সাথে এখানে অতিরিক্ত  বেশ কিছু অপশন যোগ করা হয়েছে। যেমন ফনেটিকের পাশাপাশি বাংলা লেখার জন্য ফিক্সড কীবোর্ড সংযোজন, ওয়ার্ড প্রিডিকশনের জন্য বাংলা এবং ইংরেজি অভিধান সংযোজন ইত্যাদি। এই সংস্করনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বৈশিষ্ট হল, এন্ড্রয়েড সেট বাংলা সমর্থন না করলেও এই প্রিমিয়াম সংস্করনের অ্যাপটি ব্যবহার করে বাংলা লেখা যাবে।

মায়াবী কীবোর্ড সম্পর্কে আরও জানতে হলে www.mayabisoft.wordpress.com  দেখুন। ফ্রি সংস্করনের ডাউনলোড লিংক https://market.android.com/details?id=com.mayabi.mayabikeyboard  এবং প্রিমিয়াম সংস্করনটি পাওয়া যাবে https://market.android.com/details?id=com.mayabisoft.inputmethod.premium  ঠিকানায়।

 

প্রথম আলো, ২৭ জানুয়ারী ২০১২, পৃ৩০

উইকিপিডিয়ার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপলিকেশন

সম্প্রতি উইকিপিডিয়ার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপলিকেশন প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাপলিকেশনটি অ্যান্ড্রয়েড ২.২ এবং এর পরবর্তী সংস্করনগুলোর উপযোগী করে তৈরী করা হয়েছে। এই অ্যাপলিকেশনটি ব্যবহার করে ২৪০টি ভাষার উইকিপিডিয়ার প্রায় ২কোটিরও বেশি নিবন্ধ পড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। কোনো নিবন্ধের বিভিন্ন ভাষার সংস্করণগুলো দেখার জন্য ভাষা পরিবর্তনের অপশন রয়েছে। অ্যাপলিকেশনটি ব্যবহার করার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় থাকতে হবে। যে কোনো নিবন্ধই সংরক্ষন করে রাখা যায়, এবং সংরক্ষণ করা নিবন্ধগুলো দেখার জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না। অ্যাপলিকেশনের Nearby অপশনটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর বর্তনাম অবস্থানের আশেপাশের কোনো কোন স্থান বা বিষয় নিয়ে উইকিপিডিয়াতে নিবন্ধ আছে সেটি দেখা যাবে। এছাড়া শেয়ার অপশনটি ব্যবহার করে ফেসবুক, গুগল প্লাস, টুইটারসহ অন্যন্যা পদ্ধতিতে সকলকে জানিয়ে দেয়ারও সুযোগ রয়েছে অ্যাপলিকেশনটিতে।

অ্যানড্রয়েড মার্কেট থেকে অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। এই পোস্টের সাথে দেয়া কোডটি স্ক্যন করুন অথবা সরাসরি ডাউনলোড করার ঠিকানা https://market.android.com/details?id=org.wikipedia

মুক্ত সফটওয়্যার ঘিরে পেশা

মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংএর জগৎটি এমন যে এখানে যুক্ত থেকে কাজ করার জন্য সবসময়ই পেশাদার প্রোগ্রামার হওয়ার প্রয়োজন হয় না। মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিং এর কাঠামোটি এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন সৃজনশীল যে কেউই তার চিন্তাটি বিকশিত করতে পারে।
মুক্ত সোর্স প্রোগ্রামিংভাষাগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রোগ্রামিং-এ খুব গভীর দক্ষতা ছাড়াই কাজ সম্পৃক্ত হওয়া যায়। উদাহারন হিসাবে পাইথন প্রোগামিং ভাষার কথা বলা যেতে পারে। পাইথন ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরী করা জন্য প্রোগ্রামিং দক্ষতার থেকে সৃজনশীলতার বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সাধারণত বহু সংখ্যক মানুষ সম্পৃক্ত থাকেন।এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ডেভলপাররা এই সকল প্রকল্পে যুক্ত হয়ে থাকেন। এখানে অন্যান্য ডেভলপারদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায় এবং একই সাথে দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অন্যান্যদের সহযোগীতা নেয়া যায়। এই সকল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে তা পরবর্তীতে পেশাদারি জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, ওরাকল ইত্যাদি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স প্রকল্পে সম্পৃক্ততারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। এবং এই প্রতিষ্ঠানসমূহ একাধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছে। এবং একই সাথে মুক্ত সোর্স প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ডেভলপারদের প্রতি বছরই এইসকল প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিছুদিন আগ পর্যন্তও মুক্ত সোর্স প্রকল্প বলতে কেবলমাত্র লিনাক্স বা জাভার কথা মনে হত, কিন্তু বর্তমানে এই ধারণাটি অনেকাংশেই বদলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন অ্যাপলিকেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভলপমেন্ট অন্যতম জনপ্রিয় একটি পেশা। আর এই ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা এবং দ্রুপালের মত কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এর ফলেই প্রয়োজন হচ্ছে এই ক্ষেত্রে দক্ষ ডেভলপারদের। জনপ্রিয় সিএমএসগুলোর প্রায় সবকয়টি মুক্ত সোর্স। এই সিএমএসগুলোর এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন প্রাথমিক কাজটি যে কোনো ব্যবহারকারীই করতে পারে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানের ওয়েবসাইট খুব অল্প সময়ে তৈরী করা সম্ভব হয়। তবে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ঠ সংযোজনের জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ ডেভলপারের। এর পাশাপাশি বর্তমানে মুক্তসোর্স ডাটাবেজ, মোবাইল, ইকমার্স, ওয়েব সার্ভারের মত ক্ষেত্রগুলোতেও দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়ছে। মুক্ত সোর্স এই প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ভালো দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই এই কাজগুলো করতে পারা যাবে।

যেভাবে শুরু করতে হবে?
বর্তমানে সময়ে মুক্ত সোর্সের ক্ষেত্রটি এতটাই বিশাল যে সফলতা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে একটি পথ বলে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সফলতা পাওয়ার পূর্বশর্ত হল আগে কাজে নামতে হবে। আর এই বিষয়টি কখনোই নির্দিষ্ট নয় যে মুক্ত সোর্স নিয়ে কাজ করলে মালিকানাধিন বা প্রোপাইটরী কোনো প্রকল্পে কাজ করা যাবে না। বরং দুটি প্রকল্পই সমান ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ আছে। তবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পে যুক্ত হলে কি কি সুবিধা হতে পারে সে সম্পর্কে ধারনা দেয়া যেতে পারে। মুক্ত সোর্স প্রকল্প কাজ করলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। অধিকাংশ বড় প্রকল্পেই বিশ্বমানের প্রোগ্রামাররা যুক্ত থাকেন, এই সকল প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের সাহচার্যে কাজ করার সুয়োগ পাওয়া যায়, যা সহজে অন্য কোনো পথে পাওয়া সম্ভব না। এই সকল প্রকল্পে যুক্ত থেকে যে কাজগুলো করা হবে তার প্রতিটিই সিভিতে যোগ করা যাবে। এবং এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে এই মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত থাকে এবং এই অভিজ্ঞতা ভালো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন
প্রোগ্রামিং এর প্রথমিক ধারনা অর্জন করার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানে লেখাপড়া করা বাধ্যতামূলক না। তবে এটি ঠিক যে কম্পিউটার বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রথমদিকে কিছুটা সুবিধা হতে পারে, কিন্তু ভালো মানের অন্যান্য যে কোনো প্রশিক্ষন কেন্দ্রথেকেই এই বিষয়গুলো শিখে নেয়া যায়। এরপর কাজে নামতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোতে এবং এই সময়টাতে শেখার কাজটি করতে হবে নিজেকেই। মুক্ত সোর্স প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবদানই সব থেকে বড় পরিচয়। প্রকল্পগুলোতে ভালো ভাবে কাজ করার মাধ্যমে সুনাম বাড়বে এবং এটিই দক্ষতার একটি বড় পরিচয় হয়ে থাকবে। বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিলেই যে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে এমনটি নয়।

মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলোর ঠিকানা
সোর্সফোর্জ (www.sourceforge.net): তিন লক্ষেরও অধিক মুক্ত সোর্স প্রকল্প এখানে হোস্ট করা আছে। প্রোগ্রামারদের অন্যতম পছন্দের স্থান।
গুগল কোড(www.code.google.com): মুক্তসোর্স প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করার লক্ষে গুগলের একটি প্রচেষ্টা। গুগল নিজেদের মুক্ত সোর্স প্রকল্পগুলো এখানে হোস্ট করার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহাকারীদেরও এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
কোডপ্লেক্স(www.codeplex.com): ওপেন সোর্স কমিউনিটির আরও একটি জনপ্রিয় স্থান। এটি মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এটি তত্ত্বাবধায়ন করা হয়ে থাকে। নিজে শুরু করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার প্রকল্পের যেকোনোটিতেই সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে।

এগুলো ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড, মোজিলা, অ্যাপাচি, ফেডোরার মত বানিজ্যিক প্রকল্পসমূহে যুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-16/news/185948