প্রোগ্রাম তৈরির জন্য কেমন ডেটাবেইস?

ডেস্কটপ কম্পিউটার, ওয়েব বা মোবাইল ফোনের উপযোগী অ্যাপলিকেশন বা প্রোগ্রাম তৈরির ক্ষেত্রে ডেটাবেইস গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাপলিকেশন নির্মাতা অথবা ডেটাবেইস প্রশাসকেরা (অ্যাডমিন) রিলেশনাল ডেটাবেইস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আরডিবিএমএস) বিষয়টির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত। নিরাপদ ও সহজে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার সুযোগের কারণের মূলত এ ধরনের ডেটাবেইস পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ধরনের ডেটাবেইসে তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্ট্রাকচার্ড কোয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজ (এসকিউএল) ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
মাইএসকিউএল ও পোস্টগ্রে এসকিউএল জনপ্রিয় দুটি মুক্ত ডেটাবেইস। এগুলো ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক মুক্ত ও বাণিজ্যিক ডেটাবেইস। ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে এগুলোতে। ডেটাবেইস-ভিত্তিক অ্যাপলিকেশনগুলো মূলত ডেটাবেইসকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়। অ্যাপলিকেশন তৈরির আগে ডেটাবেইস নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে লক্ষ রাখতে হয়। একবার অ্যাপলিকেশন তৈরির বেশ কিছু দিন পর যদি হঠাৎ সেটি পরিবর্তন করা থেকে শুরুর সময়ই সঠিক ডেটাবেইস নির্বাচন করাটা জরুরি। ডেটাবেইস নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এমন কিছু বিষয় আলোকপাত করা হচ্ছে এখানে।
সব ডেটাবেইসেই রয়েছে তথ্য সংরক্ষণ এবং সেটি পড়ার সুযোগ যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিবেচনা করা হোক না কেন সব ধরনের ডেটাবেইস একই কাজ করে। সেটি হলো তথ্য সংরক্ষণ করা এবং সেটি পড়া। আর কাজের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডেটাবেইসগুলোর তথ্য সংরক্ষণ, পড়ার কাজটি করা হয়ে থাকে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। সাধারণভাবে বিবেচনা করতে হয়তো পার্থক্যগুলো বিশেষভাবে বুঝতে পারা যাবে না, তবে এটি নিশ্চিত যে প্রতিটি ধরনের ডেটাবেইসের নিজস্ব এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্যান্য ডেটাবেইসের তুলনায় এখানে বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি অসুবিধাও আছে কিছু।

ভবিষ্যতের কথাও বিবেচনা করুন
ডেটাবেইস নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অ্যাপলিশকেন তৈরির সময় অ্যাপলিকেশনের প্রয়োজন, এর নিরাপত্তা, রোবাস্টনেস, ফ্লেক্সিবিলিটির বিষয়গুলো সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে এবং এর পাশাপাশি যে বিষয়টি লক্ষ রাখা প্রয়োজন সেটি হলো ভবিষ্যতে এখানে কী কী বৈশিষ্ট্য সংযোজন হতে পারে বা বর্তমানের বৈশিষ্ট্যগুলোর পরিধি কতটা বাড়তে পারে সেটি বিবেচনা করা। ফলে পরবর্তী সময়ে যদি কোনো পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয় তবে যেন আবার নতুন করে শুরু করতে না হয়।

খরচের ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ
ডেটাবেইসটি যদি মালিকানাধীন হয় তবে এটি ব্যবহারের খরচটি যেখাবে গণনা করা যায়, মুক্ত সোর্স ডেটাবেইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। মুক্ত সোর্স প্রায় সব ডেটাবেইসেই বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়, তবে খরচের বিষয়টি রয়েছে এই ডেটাবেইসগুলো অ্যাপলিকেশনের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা। যে ডেটাবেইসটি নির্বাচন করা হচ্ছে সেটি ব্যবহার করার মতো দক্ষতাসম্পন্ন ডেভেলপার রয়েছে কি না সেটি লক্ষ রাখতে হবে। সামগ্রিক খরচের বিষয়টি ধারণা পাওয়া যাবে এই বিষগুলোর ভিত্তিতে।

ডেটাবেইসের বৈশিষ্ট্য
ডেটাবেইস নির্বাচন করা উচিত এর বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এবং এটিও সঠিক যে, বর্তমানে ডেটাবেইসের বৈশিষ্ট্যগুলো এতই ব্যাপক যে, এর সবগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখাও কষ্টসাধ্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডেটাবেইসের অনেক বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট অ্যাপলিকেশনে কখনোই ব্যবহার করা হয় না। তবে ছোট বা মাঝারি মানের অ্যাপলিকেশনের ক্ষেত্রে স্কেলেবিলিটি, ব্যবহারের সুবিধা ও দক্ষ ডেভেলপারের সহজলভ্যতার বিষয়গুলো প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

ডেটাবেইস লাইসেন্স
ডেটাবেইসটি অ্যাপলিকেশনে ব্যবহারের জন্য কী লাইসেন্সে প্রকাশ করা হয়েছে সেটি জেনে রাখা প্রয়োজন। মুক্ত সোর্স লাইসেন্সগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখানে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু মুক্ত সোর্স ডেটাবেইসের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্যান্য মালিকানাধীন ডেটাবেইস ব্যবস্থা রয়েছে।
ব্যবহার-পরবর্তী সেবার ক্ষেত্রেও মুক্ত সোর্স ডেটাবেইসগুলো এগিয়ে রয়েছে। ধরা যাক একটি অ্যাপলিকেশনে পোস্টগ্রিএসকিউএল ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে কোনো একটি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে যদি পোস্টগ্রিএসকিউএল মূল সাপোর্ট দলের থেকে সহযোগিতা পাওয়া না গেলেও এটি নিশ্চিত যে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরামে হাজার হাজার কমিউনিটির সদস্যরা সেটির কোনো না কোনো সমাধান দিয়ে রেখেছে।

এসকিউএল নাকি অন্য কিছু
ডেটাবেইস বলতে সাধারণভাবে আরডিবিএমএস ডেটাবেইসকে বোঝানো হয়ে থাকে। এ ধরনের ডেটাবেইস ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসকিউএল ডেটাবেইসগুলোই ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের অ্যাপলিশকেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি নো এসকিউএল নামের একটি ডেটাবেইস পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এসে এখানে তথ্য সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট টেবিল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। বিশাল পরিমাণ তথ্যভান্ডার নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নো এসকিউএল প্রচলিত এসকিউএলের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে। যদিও বিশাল আকারের ডেটাবেইস ব্যবহার করছে এমন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো আরডিবিএমএস-ভিত্তিক ডেটাবেইস ব্যবহার করে আসছে।

published at http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-04/news/254819

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s