স্মার্টফোন কেনার আগে

মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে বেশ অনেক দিন থেকেই। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিতভাবে মোবাইল ফোনগুলোতে যোগ করা হচ্ছে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য। আগের বিলাসী ফোনগুলোর সব বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাচ্ছে এখনকার সাধারণ মানের ফোনসেটগুলোতেও। ইদানীং স্মার্ট ফোনগুলোর প্রতি ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ লক্ষ করা যাচ্ছে। হঠাৎ করে কিনে ফেলার আগে জেনে নিন এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে।
আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস, ব্ল্যাকবেরির অপারেটিং সিস্টেম বিবিওএসের খোঁজখবর রাখেন অনেকেই। আবার গুগলের তৈরিঅ্যান্ড্রয়েড নামের মুক্ত সোর্স মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমভিত্তিক মোবাইল ফোন তৈরি শুরু করেছে অনেক মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, পাশাপাশি নতুন উইন্ডোজ মোবাইল ওএসভিত্তিক মোবাইলও বাজারজাত শুরু হয়েছে। কেনার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন ফোনটি নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের সাম্প্রতিকতম সংস্করণ থাকে অথবা এটি নতুন সংস্করণে আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।

অ্যাপ মার্কেট

বর্তমানে অ্যাপেল অ্যাপস্টোরে রয়েছে সর্বোচ্চ অ্যাপস (পাঁচ লাখের বেশি), আর এর পরপরই রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট বা গুগল প্লে-তে (চার লাখের বেশি), ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজ মোবাইলেরও রয়েছে নিজস্ব অ্যাপ সেন্টার। এখানে যেমন রয়েছে বিনা মূল্যে ব্যবহার করার মতো অ্যাপ, আবার কিছু অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য কিনে নিতে হবে ওই নির্দিষ্ট অ্যাপ সেন্টার থেকে।
ই-মেইল, ক্যালেন্ডার
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম গুগল তৈরি করেছে তাই জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল কন্টাক্টের মতো গুগল ক্লাউডের সব অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। আইফোন, ব্ল্যাকবেরি, উইন্ডোজ ফোন, সিম্বিয়ান-ওএস থেকেও অতিরিক্ত অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করা যায়। ব্ল্যাকবেরি ই-মেইলের জন্য রিম নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহারের জন্য এটি সব থেকে নিরাপদ মনে করা হয়।
কি-বোর্ড
কি-বোর্ডের বিষয়টি প্রায় সবটুকু ব্যবহারকারীর অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। স্মার্টফোনে নির্দিষ্ট ফিজিকাল কি-বোর্ড, টাচভিত্তিক ভার্চুয়াল কি-বোর্ড আবার কোনো কোনো ফোনে এই দুটি অপশনই একই সঙ্গে দেওয়া হয়। ব্ল্যাকবেরি নিয়মিতভাব ফিক্সড কি-বোর্ডের ফোন তৈরি করে কিন্তু আইফোন, অ্যান্ড্রয়েড বা উইন্ডোজ মোবাইলভিত্তিক সব ফোনে টাচ কি-বোর্ড রয়েছে।
হার্ডওয়্যার
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে স্মার্টফোন পাওয়া যায়। ১ গিগাহার্জ প্রসেসর এবং ৫১২ মেগাবাইট মেমরি রয়েছে এমন স্মার্টফোনে সব ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করা যাবে। এর থেকে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর অথবা র‌্যামযুক্ত ফোনগুলোতে সাধারণত গ্রাফিকসের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের গেম খেলার জন্য বিশেষ সহায়ক এ ধরনের কনফিগারেশন। হার্ডওয়্যারের ক্ষমতা সর্বোচ্চ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ফোন থেকে আইফোনের মান ভালো।
ক্যামেরা
মোবাইল ফোন দিয়ে তোলা ছবি শেয়ার করার জন্য রয়েছে একাধিক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। স্মার্টফোনগুলোতে সাধারণত ২ মেগাপিক্সেল থেকে ৮ মেগাপিক্সেল মানের ক্যামেরা যুক্ত থাকে, তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। নকিয়ার এন-৮ ফোনটি ছবি তোলার কাজে ব্যবহার করার জন্য বেশ জনপ্রিয়। থ্রি-জি, আইপিফোন বা স্কাইপের মতো অ্যাপলিকেশন ব্যবহারের জন্য মোবাইলে ফোনে ভালো মানের ক্যামেরা যুক্ত করার বিষয়েও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে।
স্টোরেজ
স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অ্যাপস ব্যবহার করার জন্য স্টোরেজের বিষয়টিও লক্ষ রাখা প্রয়োজন। মোবাইলের ইন্টারনাল মেমরির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কাজ করছে প্রায় সব স্মার্টফোননির্মাতা প্রতিষ্ঠান, পাশাপাশি মাইক্রো-এসডি কার্ড ব্যবহার করার সুযোগও রয়েছে অধিকাংশ স্মার্টফোনে।
ব্যাটারি
সম্পূর্ণ টাচভিত্তিক ফোনগুলোর ব্যাটারি লাইফ কম হয়ে থাকে। এ ধরনের ফোনগুলোতে সাধারণ এমন মানের ব্যাটারি যুক্ত করা হয় যেন তা দিয়ে অন্তত এক দিন নিয়মিত কাজগুলো করা যায়। তবে বিশেষ ব্যবহার অভ্যাসের মাধ্যমে একই ব্যাটারি আরও দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করা যায়।

 

published at http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-27/news/253316

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s