চলে গেলেন ডেনিস রিচি

‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’—এই কথার মাধ্যমেই কম্পিউটার বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেনিস ম্যাক অ্যালিস্টায়ার রিচি। কম্পিউটারের অন্যতম জনপ্রিয় সি-প্রোগ্রামিং ভাষা সৃষ্টির জন্য তিনি খ্যাত। এ ছাড়াকেন থম্পসনের সঙ্গে মিলেতিনি ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেন। কিন্তু তিনি এখানেই থেমে থাকেননি। গবেষণা ও উন্নয়নে একনিষ্ঠ ছিলেন বলেই তাঁর তত্ত্বাবধানে চলেছে প্ল্যান-৯ এবং ইনফেরনোর মতো প্রকল্পগুলো। ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটার মেশিনারি বা এসিএমের থেকে ১৯৮৩ সালে টুরিং পদক লাভ করেন। এ ছাড়া পেয়েছেন ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইইই) রিচার্ড হামিং পদক ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রযুক্তি পদক ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি লাভ করেন।
১৯৪১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ব্রনসভিলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কাটে নিউ জার্সিতে। রিচির বাবা অ্যালিস্টায়ার রিচি বেল ল্যাবসের সুইচিই সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর তাঁর মা জিন ম্যাকগি রিচি একজন গৃহবধূ।১৯৬৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন।এরপর তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন। এ সময় এমআইটিতে অনেকে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নিয়ে গবেষণা করছিলেন। ধারণা করা হয়, এ সময় থেকেই তাঁর কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। ১৯৬৭ সালে তিনি বেল ল্যাবসে যোগ দেন। খুব দ্রুত অন্য প্রোগ্রামারদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ষাটের দশকের শেষের দিকে তিনি বেল ল্যাবসের কম্পিউটার সায়েন্স গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
১৯৬৯ সালে থম্পসন এমন একটি সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তী সময়ে ইউনিক্স নামে পরিচিতি পায়। কাজ শুরুর খুব অল্প সময় পরেই রিচি তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। রিচি বলেছেন, ইউনিক্স শুধু এ কারণেই তৈরি করা হয়নি যে এটি একটি উন্নত অপারেটিং সিস্টেম হবে; বরং একসঙ্গে একাধিক ব্যবহারকারী (মাল্টি-ইউজার) এবং একাধিক কাজ করা (মাল্টি-টাস্ক) সমর্থন করে, এমন একটি সিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল এই কারণে যে এর মাধ্যমে প্রোগ্রামারদের মধ্যে যোগাযোগ, তথ্যের আদান-প্রদান সহজতর হবে। রিচি, থম্পসন এবং অন্য ইউনিক্স প্রোগ্রামাররা কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির চিন্তা করেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী তথ্য সংযোজন, অপসারণ, ডিস্ক থেকে স্ক্রিন অথবা প্রিন্টারে তথ্য স্থানান্তর করতে পারবেন। কারণ, অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া একটি কম্পিউটারকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা বেশ সময়সাপেক্ষ ও জটিল কাজ।
ইউনিক্সকে একটি বহনযোগ্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ এটি সরাসরি বা সামান্য কিছু পরিবর্তন করে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু ভিন্ন কম্পিউটারের অর্থ হলো, আলাদা মাইক্রোপ্রসেসর আলাদা ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেমটিই নতুন করে লেখার প্রয়োজন হয়। এ সমস্যাটি সমাধান করার জন্য রিচি এটিকে এমনভাবে তৈরি করেছিলেন যেন হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের ফলে মূল সফটওয়্যারে যথাসম্ভব কম পরিবর্তন আনতে হয়। এর ফলেই ইউনিক্সের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়। ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমকে বহনযোগ্য করতেই ১৯৭২ সালে রিচি সি নামের নতুন একটি প্রোগ্রামিং ভাষার সৃষ্টি করেন। এখানে একই সঙ্গে হাই-লেভেল ও লো-লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষার বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্ট্রাকচারড ও মডিউলার প্রোগ্রামিং করা সম্ভব। এটি বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা।
ডেনিস রিচি ১২ অক্টোবর ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। নিউ জার্সিতে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এখানে তিনি একা বসবাস করতেন। রব পিকে নামের তাঁর সহকর্মী সর্বপ্রথম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সঠিক সময় বা কারণ কোনোটিই প্রকাশ করা হয়নি। বিগত বেশ কয়েক বছর থেকেই তিনি প্রোস্টেট ক্যানসার ও হূদেরাগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-10-21/news/195394

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s