তৈরি করুন নিজের সুপার কম্পিউটার

কম্পিউটারের মাধ্যমে সাধারণ কাজগুলো দ্রুতগতিতে করা যায়। এমনিতে যে কম্পিউটারগুলো আমরা ব্যবহার করে থাকি, এর বাইরে আরও নানা ধরনের কম্পিউটার রয়েছে। সুপার কম্পিউটার হলো এমন বিশেষ ধরনের কম্পিউটার, যার মাধ্যমে বড় ধরনের কাজগুলো দ্রুতগতিতে করা যায়। এ ধরনের কম্পিউটারগুলো আকারেও বেশ বড় এবং অন্যান্য কম্পিউটারের মতো এটি সাধারণ বাজারে বিক্রি করা হয় না, ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সুপার কম্পিউটারগুলো ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।

কম্পিউটার শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো গণনা যন্ত্র। সুপার কম্পিউটার এই গণনার কাজটি করতে পারে অসাধারণ দ্রুতগতিতে। সুপার কম্পিউটারে প্রসেসর কোরের সংখ্যা সাধারণ কম্পিউটার থেকে কয়েক গুণ বেশি থাকে। সাধারণ কিছু কম্পিউটারের মাধ্যমে এবং অতিরিক্ত কোনো খরচ বা ওই কম্পিউটারে কোনো পরিবর্তন না করেই এখানে একটি একাধিক (মাল্টি) কোর কম্পিউটার তৈরি করা যায়। এই পদ্ধতিতে তৈরি কম্পিউটার একটি সুপার কম্পিউটারের কাজের মতো পরিবেশ তৈরি করে দেবে। এখানে মূলত একটি ক্লাস্টার কম্পিউটারের মাধ্যমে কাজটি করা হবে।

ইথারনেট সংযোগের মাধ্যমে একাধিক কম্পিউটার একসঙ্গে যুক্ত করে ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরি করা যায়। আর একাধিক কম্পিউটার হলেও এটি কাজ করে একটি কম্পিউটারের মতো। এখানে কম্পিউটারের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়, তবে সংখ্যা যত বেশি হবে, ক্লাস্টারের ক্ষমতা তত বেশি হবে। একই সঙ্গে সঠিকভাবে কাজের চাপ (লোড) সমন্বয় করা হলে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে মনে হতে পারে, এ ধরনের একটি কম্পিউটার দিয়ে কী কাজ করা যায়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এটি অনেক ক্ষেত্রেই কাজে বিশেষভাবে সহায়তা করছে। যেমন অনেকেই রেন্ডার, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স ও মায়ার মতো সফটওয়্যারের মাধ্যমে অ্যানিমেশনের কাজ করেন। প্রতিবারই রেন্ডার করার জন্য বিশাল একটি সময় অপচয় হয়। যদিও রেন্ডার ব্যবস্থাপনার জন্য কিছু সফটওয়্যার রয়েছে। তবে এই ক্লাস্টার কম্পিউটার এ ধরনের কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে অনেক দ্রুতগতিতে।
বর্তমানে এইচডি (হাই-ডেফিনেশন) ফরম্যাট ভিডিও সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে আগের এসডি থেকে প্রায় সাত গুণ বেশি সময় লাগে। এ কম্পিউটার ব্যবহার করে ওই সময় কমিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমানে ক্লাস্টার কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে এমন একটি প্রকল্প হলো এসইটিআই—সার্চ ফর এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স।পৃথিবীর দিকে আসছে এমন বেতার সংকেত বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে যে বহির্বিশ্ব থেকে কোনো বার্তা পাঠানো হচ্ছে কি না। একইভাবে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানসার কোষের প্রোটিনের গঠন পরীক্ষার কাজ করা হয় ফোল্ডিং অ্যাট হোম প্রকল্পে। এমন আরও বহু প্রকল্প রয়েছে, যেখানে ক্লাস্টার কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে।
তৈরির পদ্ধতি: যেকোনো ধরনের আর্কিটেকচার, অপারেটিং সিস্টেম এবং বিভিন্ন সিস্টেম কনফিগারেশন-সম্পন্ন কম্পিউটার একত্রে ব্যবহার করে ক্লাস্টার তৈরি করা যাবে। ক্যাওয়াস, রকস, পেলিক্যান এইচপিসির মতো নির্দিষ্ট কিছু লিনাক্স সফটওয়্যার এ কাজে ব্যবহূত হয়। এ ছাড়া আরও যা প্রয়োজন হবে তা হলো, যে কম্পিউটারগুলো দিয়ে ক্লাস্টার তৈরি করা হবে, সেগুলোকে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখা।

পেলিক্যান এইচপিসি ইনস্টলের পাশাপাশি আইএসও থেকে সিডিরম অথবা ভার্চুয়াল মেশিনের মাধ্যমে এটি লাইভ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। লাইভ হিসেবে ব্যবহার করা হলে ভার্চুয়াল মেশিনের থেকে দ্রুত কাজ করে এবং কম্পিউটারে কোনো ধরনের পরিবর্তন করতে হয় না।

পিসি চালু হতে শুরু করলেচারটি অপশন দেখানো হয়। সেখান থেকে Live নির্বাচন করতে হবে। এরপর ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে Enter চাপার পরই Pelican HPC-এর টারমিনাল খুলবে। ইউজারের স্থানে user এবং পাসওয়ার্ডের স্থানে নতুন দেওয়া পাসওয়ার্ডটি লিখতে হবে। এখান থেকে গ্রাফিক্যাল উইন্ডো চালু করতে টারমিনালে লিখতে হবে startx। এবার ক্লাস্টার নির্ধারণ করতে লিখতে হবে pelican_setup। একপর্যায়ে Time to bring the compute node into the claster শিরোনামের একটি উইন্ডো এলে অন্য কম্পিউটারগুলো চালু করতে হবে। এখানে লক্ষ রাখতে হবে যে প্রথম বুট অপশনে যেন নেটওয়ার্ক দেওয়া থাকে। এরপর এন্টার করতে হবে।
সব কম্পিউটার যুক্ত হয়ে গেলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় ক্লাস্টারের গতি এবং সংযুক্ত নোডের সংখ্যা দেখানো হয়। এটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, এটি পরীক্ষা করার জন্য নিচের মতো কিছু নির্দেশ (কমান্ড) ব্যবহার করা যেতে পারে।

octave, karnel_example, pea_example, bgfsmin_example, gmm_example ইত্যাদি। এ কমান্ডগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারী বিশেষ ধরনের কিছু গ্রাফ দেখতে পাবে।
ক্লাস্টারের পারফরমেন্স পরীক্ষা করার জন্য একক কোনো পদ্ধতি নেই। তবে লিনপ্যাক বেশ কার্যকরভাবে কাজ করে, যদিও এটি ক্লাস্টারের সব বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে না। বেঞ্চমার্ক পরীক্ষার বিস্তারিত জানা যাবে http://bit.ly/bRab69 ঠিকানায়।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে যদিও ক্লাস্টার কম্পিউটার এখনো জনপ্রিয়তা পায়নি, তবে কিছুটা বড় আকারের কাজ করার জন্য এটি বেশ কার্যকর পদ্ধতি।

source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-11-26/news/111137

Advertisements

3 thoughts on “তৈরি করুন নিজের সুপার কম্পিউটার

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s