কোন লিনাক্স ব্যবহার করবেন?

নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি অতি সাধারন প্রশ্ন যে লিনাক্সের কোন ডিস্ট্রিবিউশনটি তার ব্যবহার করা উচিত । এ ধরনের প্রশ্ন করা হয় কারন বর্তমানে লিনাক্সের কয়েক শত রকমের ডিস্ট্রিবিউশন পাওয়া যায় এবং দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। লিনাক্স একটি ওপেন সোর্স ওপারেটিং সিস্টেম তাই যে কেউই ইচ্ছা করলে এটির সোর্স কোড নিয়ে পছন্দ মত সংযোজন বা পরিমার্জন করে অন্য কোন নামে নতুন একটি ডিস্ট্রিবিউশন তৈরী করতে পারে।
ডিস্ট্রিবিউশন ও ভার্সন এক বিষয় নয়। একটি সফটওয়্যার রিলিজ পাওয়ার পর সেটির বিভিন্ন অসুবিধা চিহ্নিত করা হয় এবং সেগুলি সংশোধন করে নতুন ভার্সন বের করা হয় । লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশকে কার্নেল বলে, এই অংশটুকু ঠিক রেখে যেকোন ব্যক্তি বা গ্রুপ তাদের দরকার বা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সফটওয়্যার, বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা বা আরও নানা বিষয় যুক্ত করে নতুন নতুন ডিস্ট্রিবিউশন বা ডিস্ট্রো তৈরী করে।

আপনি যদি নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হন বা উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম থেকে লিনাক্স ব্যবহার শুরুতে চান তবে আশাকরি এই লিখাটি আপনার কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবে।

১) হার্ডওয়্যারের ক্ষমতা

কোন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহার শুরু করার পূর্বে আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন দেখে নিন। যদি আপনার কম্পিউটারটি একেবারে নতুন হয় বা খুব সাম্প্রতিক সময়ে কেনা হয়ে থাকে তবে আপনি যে কোন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহার করতে পারবেন কোন প্রকার সমস্যা ছাড়াই। কিন্তু কম্পিউটারটি যদি কয়েক বছর আগে কেনা হয়ে থাকে বা যদি Prntium II বা Prntium III এর কোন একটি হয় তবে আপনার উচিত কম রিসোর্স ব্যবহার করে এমন কোন ডিস্ট্রো বেছে নেয়া।

লিনাক্সের এমন অনেক ডিস্ট্রো আছে যেগুলি অনেক কম মেমোরী ব্যবহার করে চলতে পারে এবং এগুলি সাধারনত খুব অল্প জায়গায় ইনস্টল করা যায়। কিন্তু তাই বলে যে এটি দিয়ে কোন কাজ ঠিক ভাবে করা যায় না এমনটি ভাবা ভুল হবে। কারন অফিস স্যুট,মিডিয়া প্লেয়ার বা ওয়েব ব্রাউজার তো আছেই সেই সাথে কোন কোন ডিস্ট্রোর ইফেক্টগুলি দেখে হয়তো আপনি বিশ্বাসই করতে চাইবেন না যে আপনার পেন্টিয়াম ২ মানের একটি কম্পিউটারেও এত ভালো গ্রাফিকাল ইফেক্ট দেখা যায়।

এমন কয়েকটি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন হল Puppy Linux, Xubuntu, WattOS

২) ব্যবহারের ধরন

আপনি কি ধরনের কাজ করেন তার উপর ভিত্তি করেও আপনি লিনাক্সের ডিস্ট্রো বেছে নিতে পারেন। হয়তো আপনি হোম থিয়েটার সিস্টেম বা ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ডার তৈরী করেন(PVR) তবে লিনাক্সের একটি ডিস্ট্রো বা যদি মিডিয়া ফাইল নিয়ে বেশী কাজ করতে হয় তবে অন্য একটি বা আপনি যদি কম্পিউটারে গেম খেলতে আগ্রহী হতে পারেন। এরকম আপনার বিভিন্ন লিনাক্সের বিশেষ বিশেষ ডিস্ট্রো রয়েছে। এখানে লিনাক্সের এমন কিছু ডিস্ট্রো হল

* Mythbuntu – PVR সিস্টেম তৈরী করার জন্য
* Ultimate Gamer edition – লিনাক্সের অন্য যে কোন ডিস্ট্রো থেকে এটিতে গেম ও গেম খেলাও উপযোগী সফটওয়্যার বেশী রয়েছে
* gOS – গুগল এর সব সফটওয়্যার গুলি এখানে ইনস্টল করা থাকে। আপনি যদি গুগল(Gmail, Google calendar, Google docs, Picasa) এর উপর খুব বেশী নির্ভরশীল হয়ে থাকেন তবে মনে হবে এটি আপনার জন্যই তৈরী করা হয়েছে।
* Ubuntu studio – মিডিয়া ফাইল নিয়ে যাদের বেশী কাজ করতে হয় এটি তাদের বেশী কাজে লাগবে।

বিশেষ এই ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহার করা ছাড়া যে ঐ কাজ গুলি অন্য কোন ডিস্ট্রোতে করা যাবে না, এমন নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার ইনস্টল করে আপনি অন্যান্য ডিস্ট্রোতেও সহদেই এই কাজ গুলি করতে পারবেন।
৩) কমিউনিটি সাপোর্ট

নতুন ব্যবহারকারী হিসাবে আপনার উচিত এমন একটি ডিস্ট্রো বেছে নেয়া উচিত যেটিতে আপনি সমস্যায় পড়লে তার সমাধান পেতে পারেন। সেটি হতে পারে কোন ফোরাম, উইকি বা ব্যবহারকারীদের কমিউনিটি আবার সব ক্ষেত্রে যে সেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হতে হবে এমনটিও নয়। তবে কোন কিছু নতুন শুরু করলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন কিন্তু যদি সেটির সমাধান কখনোই না পান তবে সে বিষয়ে আপনার আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সবচাইতে জনপ্রিয় ডিস্ট্রোগুলি হল উবুন্টু (Ubuntu), ওপেন সুসি(Open Suse), ম্যানড্রিভা (Mandriva), ফেডোরা (Fedora) ইত্যাদি। এদের মধ্যে উবুন্টু সবচাইতে জনপ্রিয় এবং এদের ফোরামের সক্রিয় সদস্য সংখ্যাও অনেক।

৪) ব্যবহার শুরু করা
এতক্ষনে আপনি যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে আপনি কোন ডিস্ট্রো ব্যবহার করবেন তবে ইন্টারনেট থেকে সেটি নামিয়ে নিন। এখনকার প্রায় সব ডিস্ট্রোই লাইভ সিডি/ ডিভিডি ভার্সন পাওয়া যায়। এটি এমন একটি পদ্ধতি যায় ফলে কম্পিউটারে ঐ অপারেটিং সিস্টেমটা ইনস্টল না করে সিডি/ ডিভিডি থেকেই সব ধরনের কাজ করতে পারা যায়। নামানো শেষ হলে সিডি/ ডিভিডি -তে বার্ন করে নিন। ইনস্টল না করেই চালিয়ে দেখুন পছন্দ হয় কিনা।

আপনি যদি সিডি/ ডিভিডি রাইট না করতে চান তবে Vmware বা Virtualbox সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। সফটওয়্যার গুলি ব্যবহার করে একটি অপারেটিং সিস্টেম থেকেই অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারা যায়। যেমন আপনি যদি উইন্ডোজ ব্যবহারকারী হন তবে আপনি সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে লিনাক্সের যেকোন ডিস্ট্রো ব্যবহার করতে পারবেন।

সবশেষে

আপনি কোন লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার করবেন তার সিদ্ধান্ত দেয়া খুব কঠিন কোন কাজ নয়। আপনার যেটি করতে হবে সেটি হল আপনার কি কি প্রয়োজন আর কোনটি থেকে আপনি কি সুবিধা পাচ্ছেন তা জানতে চেষ্টা করা। DistroWatch.com নামের ওয়েব সাইটে লিনাক্সের প্রায় সব ডিস্ট্রো সম্পর্কে বেশ কিছু সাধারন তথ্য জানতে পারবেন। যেমন কোনটির ব্যবহারকারী বেশী, কোনটিতে ভালো সাপোর্ট পাওয়া যায়, কবে রিলিজ পাবে, সর্বশেষ আপডেট কবে করা হয়েছে ইত্যাদি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s